জন্মদিনে মৌসুমী

ইসলামে যেহেতু জন্মদিন করার রীতি নেই, সেটা মেনে চলার চেষ্টা করি

ইসলামে যেহেতু জন্মদিন করার রীতি নেই, সেটা মেনে চলার চেষ্টা করি

আজ ৩ নভেম্বর ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ও ‘প্রিয়দর্শিনী’ মৌসুমীর জন্মদিন। তবে বিশেষ এই দিনে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। প্রায় তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন নন্দিত এই অভিনেত্রী। প্রিয়দর্শিনী তারকা দেশে না থাকলেও জন্মদিনে তাকে ঘিরে ভক্ত-অনুরাগীদের উৎসাহ-উদ্দীপনায় কমতি নেই। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফ্যান ক্লাবের উদ্যোগে দিনটি বিশেষভাবে উদযাপিত হচ্ছে। পাশাপাশি স্বামী চিত্রনায়ক ওমরসানীর বিশেষ চমক ও দোয়ার আয়োজন তো রয়েছেই।

যুক্তরাষ্ট্রে যেভাবে কাটছে মৌসুমীর জন্মদিন: যুক্তরাষ্ট্র থেকেই নিজের জন্মদিন প্রসঙ্গে মৌসুমী জানান, এবার জন্মদিন নিয়ে তাঁর বড় কোনো পরিকল্পনা বা জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নেই। আম্মু, মেয়ে এবং বোনেরা মিলে যুক্তরাষ্ট্রেই একসঙ্গে ঘরোয়া ও সুন্দর সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন। নিজেদের মতো করে খাওয়া-দাওয়া ও আড্ডাতেই কাটবে বিশেষ দিনটি।

বিজ্ঞাপন

মৌসুমী আরও বলেন, ‘ঢাকায় থাকলে হয়তো একটু ভিন্ন কিছুর আয়োজন হতো। তাছাড়া ইসলামে যেহেতু জন্মদিনে জাঁকজমকপূর্ণ কিছু করার কোনো রীতি নেই, তাই এই সময়ে এসে সেটা আরও একটু মেনে চলার চেষ্টা করি। তবে এটা ভেবে ভালো লাগে যে, ঢাকায় সানী নানান কিছু করে, আর আমার ফ্যান ক্লাব থেকে দেশজুড়েই ভক্তরা অনেক আয়োজন করে। সেসব আমি দূর থেকে উপভোগ করি, বেশ ভালোই লাগে।’

নিজের ছোটবেলার স্মৃতির কথা স্মরণ করে প্রিয়দর্শিনী এই নায়িকা বলেন, ‘ছোটবেলায় আব্বু আমার জন্মদিনে এতিমখানায় খাওয়া-দাওয়া করাতেন এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত অসহায় মানুষদের সহযোগিতা করতেন। তবে বাসায় বড় কোনো উৎসবের প্রতি তার অনাগ্রহ ছিল। অন্যদিকে আম্মু অনেক রান্না-বান্না করতেন এবং আত্মীয়স্বজনদের ডেকে খাওয়াতে ভালোবাসতেন। সেই দিনগুলো ও সময়গুলো আমি খুব মিস করি।’

দেশে ওমরসানী ও ফ্যান ক্লাবের বিশেষ আয়োজন: খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মৌসুমীর জন্মদিনে রাজধানীর ফার্মগেটে ‘মৌসুমী ফ্যান ক্লাবে’র উদ্যোগে বিশেষভাবে দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে।

এদিকে স্ত্রীর জন্মদিন নিয়ে চিত্রনায়ক ওমরসানী বলেন, ‘আমার স্ত্রী এবং আমার মেয়ে আমাকে অনুরোধ করেছে যেন আমার ও পরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষ দোয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এর পাশাপাশি আমি আরও একটা বিশেষ কাজ করছি, যা কাউকে জানাতে চাই না। কারণ আমি প্রচারের জন্য এটি করছি না, মন থেকেই করছি। আর ফ্যান ক্লাব থেকে যা আয়োজন করা হচ্ছে, সেখানে আমি শুধু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকব। ব্যস, এতটুকুই!’

সোনালী দিনের স্মৃতি ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার: ১৯৯৩ সালে প্রয়াত নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহানের ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে ঢাকাই চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন মৌসুমী। এর আগে তিনি বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবেও কাজ করেছিলেন। প্রথম সিনেমাতেই তার বিপরীতে ছিলেন অমর নায়ক সালমান শাহ। সালমান শাহর সঙ্গে পরবর্তীতে তিনি ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘দেনমোহর’ ও ‘স্নেহ’ সিনেমায় অভিনয় করেন।

সেই সময় ওমরসানীর বিপরীতে অভিনয় করেও তিনি তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন এবং দর্শকমহলে প্রশংসিত হন। মৌসুমী ও ওমরসানী জুটির উল্লেখযোগ্য ও দর্শকপ্রিয় সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘দোলা’, ‘আত্মঅহংকার’, ‘লজ্জা’, ‘বাপের টাকা’, ‘হারানো প্রেম’, ‘প্রথম প্রেম’, ‘স্নেহের বাঁধন’, ‘ফাঁসির আসামি’, ‘মুক্তির সংগ্রাম’, ‘কথা দাও’, ‘ক্ষুধা’, ‘রঙিন রঙ্গবাজ’ ইত্যাদি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন