বিতর্কে বিলুপ্তির পর যুবদলের কমিটি, ফের ১৮ নেতার পদত্যাগ

বিতর্কে বিলুপ্তির পর যুবদলের কমিটি, ফের ১৮ নেতার পদত্যাগ

লক্ষ্মীপুরের কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের কমিটি নিয়ে বিতর্ক যেন শেষই হচ্ছে না। টাকা নিয়ে প্রবাসীদের দিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগে ১৬ নেতার পদত্যাগের পর কেন্দ্র থেকে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। এর এক মাস পর শুক্রবার ফেসবুকে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতেও টাকার বিনিময়ে পদ দেওয়া, আওয়ামী লীগের কর্মীসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে ফের ১৮ নেতা পদত্যাগ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

শনিবার চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের শীর্ষ নেতাদের বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন ওই নেতারা। এ পরিস্থিতিতে কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্র জানায়, সবশেষ রফিক উল্যাকে আহ্বায়ক ও মাসুদুর রহমান মাসুদকে সদস্য সচিব করে কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আবদুর রশিদসহ ১২ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক এনায়েত উল্যা, যুগ্ম আহ্বায়ক এম আবদুল খালেক ও সদস্য সচিব আবদুল মুকিত সোহেল এ কমিটির অনুমোদন দেন।

নতুন কমিটিতেও টাকার বিনিময়ে পদ দেওয়া, আওয়ামী লীগের কর্মীসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে রাখার অভিযোগ তোলেন নেতাকর্মীরা। এর প্রতিবাদে যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রশিদ, মো. জাহাঙ্গীর, এমরান হোসেন, রাজু হোসেন, খুরশিদ আলম, দিদারুল আলম, আজিম উদ্দিন বাবলুসহ ১৮ নেতা পদত্যাগ করেন।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, এর আগে গত ২৬ জুলাই কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের ৩১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই কমিটিতে আবদুর রশিদকে আহ্বায়ক ও মাসুদুর রহমান মাসুদকে সদস্য সচিব করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ও হারুনুর রশিদসহ ১৬ নেতা পদত্যাগ করেন।

তাদের অভিযোগ ছিল, টাকার বিনিময়ে প্রবাসীদের দিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ায় তারা পদত্যাগ করেছেন। এমনকি কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবও বিদেশ থেকে এসে টাকা দিয়ে কমিটি নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এসব বিতর্কের পর গত ২৮ জুলাই কেন্দ্র থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

তখন পদত্যাগ করা যুগ্ম আহ্বায়ক রফিক উল্যা অভিযোগ করেছিলেন, তাকে আহ্বায়ক করার কথা বলে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের নেতারা ২ লাখ টাকা নিয়েছেন। এ কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছিলেন। তবে সর্বশেষ ঘোষিত নতুন কমিটিতে তাকেই আহ্বায়ক করা হয়েছে।

স্থানীয় যুবদলকর্মী ফারুক হোসেন ও ইমন বলেন, “আমাদের ইউনিয়নে যুবদল নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। যে বেশি টাকা দিতে পারে, তাকেই পদ দেওয়া হয়। কমিটি ঘোষণা, পদত্যাগ, বিলুপ্তির পর আবার নাটকীয়ভাবে নতুন কমিটি হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা বিভ্রান্তিতে আছি।”

চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক এনায়েত উল্যা বলেন, নতুন কমিটির যারা পদত্যাগ করেছেন, তাদের নিয়ে বসা হবে। মূলত সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে টাকার বিনিময়ে কমিটি করার অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিঙ্কন বলেন, “রাগ-ক্ষোভে কয়েকজন পদত্যাগ করতে পারেন, ১৮ জনের পদত্যাগ সত্য নয়। যাদের দিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে, তারা দলের পরীক্ষিত।”

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন