তজুমদ্দিনে ৩৯ সরকারি ঘর এখনো আওয়ামীদের দখলে

তজুমদ্দিনে ৩৯ সরকারি ঘর এখনো আওয়ামীদের দখলে
তজুমদ্দিনে আ.লীগ নেতাদের নামে থাকা সরকারি ঘরগুলোকে এভাবেই বিল্ডিং তৈরি করে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। ছবি: আমার দেশ

তজুমদ্দিনের সদর শশীগঞ্জ বাজারের পানি উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন ৪১টি সরকারি ঘরের (চান্দিনা ভিটা) মধ্যে ৩৯টিই এখনো রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাদের দখলে। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের নামে এসব ভিটাগুলো বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও সেগুলো ভোগদখলে রেখে ভাড়া নিচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা এবং আওয়ামীপন্থি শিক্ষক ও সরকারি চাকরিজীবীরা।

সরকারি ঘরগুলো ভাড়া না দেওয়া এবং ইমারত নির্মাণ করার নিয়ম না থাকলেও সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে দোতলা বিল্ডিং তৈরি করে ভাড়া দিচ্ছেন স্থানীয় আ.লীগ নেতারা।

বিজ্ঞাপন

তজুমদ্দিন উপজেলা ভূমি অফিসের তথ্যমতে উপজেলা সদরে চান্দিনা ভিটা রয়েছে ৪১টি। সর্বশেষ ২০১৪ সালে এ ভিটাগুলো এক সনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর আর কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। যারা আগে বরাদ্দ পেয়েছেন তাদের নামেই প্রতিবছর নবায়ন করেই এখনো চলছে। ভাড়া দেওয়া বা বিল্ডিং করার বিষয়ে তারা তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এদিকে ৪১ নামে বরাদ্দ করা ঘরের তালিকা যাচাই করে দেখা যায়, ২০১৪ সালে যেসব আওয়ামী নেতাদের নামে ঘর বরাদ্দ রয়েছে তাদের মধ্যে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মৃত অহিদ উল্যাহ জসিম, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন সুমন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন দুলাল, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সভাপতি আমিনুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফখরুল আলম জাহাঙ্গীর, বর্তমান উপজেলা মৎস্যজীবী লীগ সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক দেওয়ানের ছেলে ফাহমিদ দেওয়ান, মহিলা মাদরাসা শিক্ষক ও আওয়ামী সদস্য পিযুষ কুমার কর্মকার, আওয়ামী সমর্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক ইউসুফ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা লীগ সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা বেগম সাজু, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর দপ্তরের কর্মচারী আবুল হাসনাত লিটনসহ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নামে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন তজুমদ্দিন বাজার ব্যবসায়ীরা। তারা পুনরায় ঘরগুলোকে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান। শনিবার তজুমদ্দিন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হাওলাদারসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, এ চান্দিনা ভিটাগুলো আগে থেকেই ব্যবসায়ীদের নামে বরাদ্দ ছিল। ২০০৭ সালে সেই ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালে নতুন ঘরপ্রাপ্তির জন্য দরখাস্ত আহ্বান করলে উচ্ছেদ করা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরাও ঘর বরাদ্দের জন্য আবেদন করলে এ ভিটাগুলো তাদের বরাদ্দ না দিয়ে অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে আওয়ামী লীগ নেতা ও আওয়ামীপন্থি সরকারি এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এ বছরের ২ এপ্রিল তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে বরাদ্দ করা ঘরগুলো পুনরায় প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়ার আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কাজে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ জানান ব্যবসায়ীরা।

তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বনি আমিন বলেন, চান্দিনা ভিটার বরাদ্দের অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ইউনিয়ন সার্ভেয়ারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...