শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে পা রেখেই নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সময়ের পরিক্রমায় তিনি এখন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা—প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। সম্প্রতি তাঁর অভিনয়ের ঝুলিতে যুক্ত হলো নতুন আরেকটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড’-এর ২৫তম আসরে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘বঙ্গ’তে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রিয় প্রাক্তন’ ওয়েব ফিল্মে ‘তমা’ চরিত্রে চমৎকার অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।
চলচ্চিত্রে দীঘির আগমন ঘটেছিল শিশুশিল্পী হিসেবে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘কাবুলিওয়ালা’ সিনেমার মাধ্যমে, যা ২০০৬ সালের ৪ আগস্ট মুক্তি পায়। তবে সিনেমায় আসার আগেই গ্রামীণফোনের একটি জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় উঠে আসেন তিনি।
দীঘির বাবা সুব্রত ছিলেন ঢাকাই সিনেমার অভিনেতা এবং মা দোয়েলও ছিলেন একজন জনপ্রিয় নায়িকা। মূলত মায়ের প্রবল আগ্রহ ও অনুপ্রেরণাতেই দীঘির বিজ্ঞাপনে অভিনয় এবং পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে পথচলা শুরু হয়।
‘কাবুলিওয়ালা’র বিপুল সাফল্যের পর শিশুশিল্পী হিসেবে তিনি ‘চাচ্চু’, ‘দাদী মা’, ‘সাজঘর’, ‘অবুঝ শিশু’, ‘কপাল’, ‘বাবা আমার বাবা’ ও ‘এক টাকার বউ’সহ বহু হিট চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। শিশুশিল্পী হিসেবে অসাধারণ অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘কাবুলিওয়ালা’, ‘এক টাকার বউ’ ও ‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’—এই তিনটি চলচ্চিত্রের জন্য তিনি লাভ করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
পরবর্তীতে প্রাপ্তবয়স্ক নায়িকা হিসেবে দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর ‘তুমি আছো তুমি নেই’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় নতুন যাত্রা শুরু করেন দীঘি। এরপর তিনি অভিনয় করেন ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’, বিশ্বমঞ্চে প্রশংসিত ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’, ‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’ এবং সর্বশেষ আলোচিত চলচ্চিত্র ‘জংলি’তে।
ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন দীঘি। সুমন ধরের পরিচালনায় ‘চিঠি’ ওয়েব ফিল্মের মাধ্যমে প্রথম ওটিটিতে পা রাখেন তিনি, যেখানে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন ইয়াশ রোহান। এরপর ইফতেখার মাহমুদ ওসিন পরিচালিত ‘প্রিয় প্রাক্তন’ ওয়েব ফিল্মে ‘তমা’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়, যা এনে দিল ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডের এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা।
নিজের অভিনয়জীবন নিয়ে আবেগপ্লুত কণ্ঠে দীঘি বলেন, ‘আমার শৈশবটা ভীষণ বর্ণাঢ্য ছিল। সিনেমার সবাই আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন, বিশেষ করে মান্না আঙ্কেলকে খুব মিস করি। আম্মুর আঙুল ধরে ধরেই সিনেমার অলিতে-গলিতে আমার পথচলা শুরু হয়েছিল। একসময় আম্মু আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন, জীবনে ভীষণ শূন্যতা নেমে এলো। তবে জীবনের নিয়মে সব সামলে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন বাবা। এখন আমার পুরো দুনিয়াটাই আমার বাবা। আমিও চেষ্টা করছি ভালো ভালো কাজ উপহার দেওয়ার। দেশের কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সম্মানিত করায় ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড পরিবারকে অশেষ ধন্যবাদ।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

