চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মহাসড়কে ট্রাফিক পুলিশের মামলা ও হয়রানি এড়ানোর কথা বলে সিএনজি অটোরিকশাচালকদের কাছ থেকে গাড়িপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চালক ও লাইন-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ট্রাফিক সার্জেন্টের নাম ভাঙিয়ে পৌর সদরের আশপাশের অন্তত ১৯টি সিএনজি লাইন থেকে শত শত গাড়ির কাছ থেকে নিয়মিত এ টাকা আদায় করা হচ্ছে। তবে এসব অর্থ আদায়ের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক সার্জেন্ট মনতাজির।
চালকদের অভিযোগ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে সিএনজি চলাচলের ক্ষেত্রে মামলা ও নানা আইনি ঝামেলা এড়ানোর আশ্বাস দিয়ে এ অর্থ আদায় করা হয় করা। তাদের দাবি, মাসে ৫০০ টাকা পরিশোধ করলে মহাসড়কে চলাচলের সময় মামলা বা হয়রানির শিকার হতে হবে না, এমন কথাও বলা হয়। ফলে পুলিশের নাম জড়িত থাকায় অনেক চালক বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌর সদরের আশপাশের মুরাদপুর, সৈয়দপুর ও বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৯টি সিএনজি লাইন রয়েছে। প্রতিটি লাইনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ পরিচালনা কমিটি রয়েছে। অভিযোগ, এসব লাইনের গাড়ি থেকে প্রতি মাসে গাড়িপ্রতি ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়।
সৈয়দপুর ইউনিয়নের ব্রিকফিল্ড সিএনজি লাইনের বর্তমান সভাপতি রনি ও সাবেক সভাপতি রহমান বলেন, ট্রাফিক সার্জেন্টের জন্য গাড়িপ্রতি ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়। সিএনজি অটোরিকশা চালক নবীসহ একাধিক চালকের অভিযোগ, পুলিশের নাম ব্যবহার করে টাকা নেওয়া হলেও এর বিপরীতে কোনো রসিদ দেওয়া হয় না।
চালকদের আরও অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্দিষ্ট লাইনে গাড়ি রাখা কিংবা সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। মহাসড়কে পুলিশি মামলার ভয় থাকায় অনেকে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতেও চান না।
তবে এ অর্থ আদায়ের কোনো দাপ্তরিক রসিদ, সরকারি চালান, হিসাবখাতা কিংবা ট্রাফিক পুলিশের অনুমোদনের নথি পাওয়া যায়নি। কার নির্দেশে টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে, কার কাছে জমা হচ্ছে এবং মাস শেষে মোট কত টাকা আদায় হচ্ছে, এসবেরও সুনির্দিষ্ট তথ্য মেলেনি।
সীতাকুণ্ড বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পৌর সদরের প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজট থাকলেও তা নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা কম। তাদের মহাসড়ককেন্দ্রিক দায়িত্বেই বেশি ব্যস্ত দেখা যায়। সিএনজি চালকদের কাছ থেকে ট্রাফিক পুলিশের নাম ব্যবহার করে টাকা আদায়ের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
অভিযোগ অস্বীকার করে ট্রাফিক সার্জেন্ট মনতাজির বলেন, আমার নামে সিএনজি থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ট্রাফিক পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কেউ অসাধু সুবিধা নিয়ে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রাসেল আমার দেশকে বলেন, পুলিশের নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা আদায় করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলামও বলেন, চালকদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, অন্তত ১৯টি লাইনে শত শত গাড়ি থেকে মাসে গাড়িপ্রতি ৫০০ টাকা করে নেওয়া হলে মোট আদায়ের পরিমাণ কত। এই অর্থ কারা সংগ্রহ করছে এবং কোথায় যাচ্ছে। অভিযোগ সত্য হলে এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে ট্রাফিক সার্জেন্টের নাম ব্যবহার করে কারা চালকদের কাছ থেকে টাকা তুলছে, দুই ক্ষেত্রেই বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে।
অর্থ আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লাইন কমিটির ভূমিকা, টাকা সংগ্রহের পদ্ধতি, হিসাবপত্র ও সম্ভাব্য মোবাইল আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


