তীব্র গরমের মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিং ও ভোল্টেজের ওঠানামায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার জনজীবন। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের ব্যাপক ঘাটতি থাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। অর্থাৎ দিনে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে উপজেলাবাসীকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। কোথাও ২০ মিনিট বিদ্যুৎ থাকলেও পরবর্তী ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, হাসপাতালের রোগী, শিশু, বয়স্ক ও দিনমজুররা। গরমের কারণে সাধারণ মানুষকে খালি গায়ে রাস্তায় প্রাকৃতিক বাতাসের খোঁজে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে।
মোবাইল চার্জের জন্য অনেকে সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছেন। পৌরসভার বাসাবাড়িতে ভাত রান্না এবং পানির সংকট তীব্র হচ্ছে।রাতে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা মোমবাতির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
মোহনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, জোনাল অফিসের আওতাধীন প্রায় ৫৩ হাজার গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে নিয়মিতভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৪ থেকে ৫ মেগাওয়াট। আগে যেখানে ৭-৮ মেগাওয়াট পাওয়া যেত, এখন তা ৩-৪ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।
মোহনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক এমদাদুল হক বলেন, ‘আমাদের এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও জাতীয় গ্রিড থেকে গড়ে মাত্র ৪ থেকে ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। গত কিছু দিন তা আরও কমে ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরবরাহও স্বাভাবিক হবে।’
খুরশিমুলের বাসিন্দা হাফেজ জোনায়েদ আহমেদ বলেন, ‘মার্চ-এপ্রিলে আমার বিল আসত ৩-৪ হাজার টাকা। কিন্তু গত জুলাই মাসে বিল এসেছে ৯ হাজার ৩০০ টাকা। বিদ্যুৎ নাই অথচ ভুতুড়ে বিল, এটা কিভাবে মেনে নেওয়া যায়।’
স্থানীয় গ্রাহক পরেশ চক্রবর্তী বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ৩-৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই। এই গরমে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি। অথচ বিদ্যুৎ বিল আগের তুলনায় অনেক বেশি গুনতে হচ্ছে।’
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ব্যবসা-বাণিজ্যও মুখ থুবড়ে পড়েছে। মোহনগঞ্জের বাসিন্দা স্বর্ণা আক্তার বলেন, ‘রাত-দিন মিলিয়ে ৩-৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। গরমের কারণে বাচ্চারা পড়তে বসতে চায় না। ফ্রিজের মাছ-মাংসও নষ্ট হচ্ছে। এমনকি মোবাইল চার্জ দেওয়ার সময়ও বিদ্যুৎ থাকে না।’
মোহনগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকলে কম্পিউটারের কাজসহ সব কাজ বন্ধ। প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে। লোডশেডিং নামক অভিশাপ থেকে মুক্তি চাই।’ উপজেলা বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকার কারণ জাতীয় সংকট। সরকার দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে বলে আশা রাখি।’
নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়ার অনুরোধ করছি। রাত ১০টার পর মসজিদ-মন্দির ও দোকানের আলোকসজ্জা বন্ধ রাখতে হবে।’
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-ed21ed-720x405.webp)