ব্যাংকাস্যুরেন্স কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী ‘ব্যাংকাস্যুরেন্স কনফারেন্স-২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে ২০২৫ সালে ব্যাংকাস্যুরেন্স ব্যবসায় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ পূবালী ব্যাংক পিএলসির ৪২ কর্মকর্তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের আয়োজনে সম্প্রতি শ্রীমঙ্গলের গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংকাস্যুরেন্স কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা, সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ব্যাংক ও বীমা সেবার সমন্বিত সুবিধা গ্রাহকদের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার উপায় নির্ধারণ করা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সিইও উত্তম কুমার সাধু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেল্টা লাইফের কনসালট্যান্ট শফিউল আলম খান চৌধুরী এবং পূবালী ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহনেওয়াজ খান।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেল্টা লাইফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিএফও মিল্টন বেপারী এবং পূবালী ব্যাংক পিএলসির মহাব্যবস্থাপক ও চিফ ব্যাংকাস্যুরেন্স অফিসার মো. ফয়জুল হক শরীফসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পূবালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি ব্যাংকাস্যুরেন্স ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য আরও বিস্তৃত আর্থিক সেবা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ব্যাংক ও বীমা খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা গেলে গ্রাহকদের প্রয়োজনভিত্তিক আর্থিক সেবা সহজে ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
ব্যাংকারদের ব্যাংকাস্যুরেন্স কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রাহকদের পরিবর্তিত চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকিং ও বীমা সেবার সমন্বিত সুবিধা তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
সম্মেলনে ২০২৫ সালে ব্যাংকাস্যুরেন্স ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ পূবালী ব্যাংক পিএলসির ৪২ কর্মকর্তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এর মধ্যে ৯ জন কর্মকর্তাকে ‘বর্ষ সেরা’ পদক এবং ৩৩ জন কর্মকর্তাকে সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়। কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা, ব্যবসায়িক সাফল্য ও ব্যাংকাস্যুরেন্স কার্যক্রমে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এসব পুরস্কার দেওয়া হয়।
সম্মেলনে সফল কর্মকর্তাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকাস্যুরেন্স ব্যবসার অগ্রগতি ও অর্জন পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ব্যবসাকে আরও সম্প্রসারণে বিভিন্ন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ব্যাংকাস্যুরেন্স ব্যাংকিং ও বীমা খাতের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকের বিদ্যমান গ্রাহক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জীবনবীমা সেবা আরও সহজে ও দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
তারা বলেন, সফল কর্মকর্তাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার এ ধরনের আয়োজন কর্মীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি ব্যাংকাস্যুরেন্স ব্যবসার প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা আরও বলেন, ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে গ্রাহকদের জন্য এক জায়গা থেকেই ব্যাংকিং ও বীমার প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যাংকাস্যুরেন্স কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মকর্তাদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে গ্রাহকদের আরও উন্নত ও প্রয়োজনভিত্তিক আর্থিক সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


