টাঙ্গাইলের সখিপুরে এসএসসি পাস করে শিক্ষার্থীরা মিষ্টি না খেয়ে সেই টাকা তুলে দেন ব্লাড ক্যান্সার আক্রান্ত এক বন্ধুর মায়ের চিকিৎসার জন্য। এমন মানবিক খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদপত্রে প্রকাশের পর তা নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ফোন করেন টাঙ্গাইল-৮ (সখিপুর-বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাড. আহমেদ আযম খানকে। প্রধানমন্ত্রী ওই অসুস্থ মা ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং ওই মায়ের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেন।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ফোন করে সখিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশরাফুল আলমকে ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে সখিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৮ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী অ্যাড. আহমেদ আযম খানকে ফোন করেছিলেন। তিনি সখিপুরের কলতান বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থী নাঈম ইসলামের ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।’
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে কিছু অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হবে। আগামী ২৬ আগস্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনে গিয়ে নিজ হাতে ওই পরিবারের কাছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের অর্থ তুলে দেবেন।
জানা যায়, সখিপুর উপজেলার কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা পাসের আনন্দে মিষ্টি বিতরণ না করে ২৫ জন শিক্ষার্থী তাদের মিষ্টি খাওয়ার ২০ হাজার টাকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বাদলের হাতে তুলে দেন। পরে ওই প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলে আরও ২০ হাজার টাকাসহ মোট ৪০ হাজার টাকা তাদের সহপাঠী নাঈম ইসলামের ব্লাড ক্যান্সার আক্রান্ত মা লাইলী বেগমের চিকিৎসার জন্য নাঈমের দাদা আব্দুস ছাত্তার সিকদারের হাতে তুলে দেন।
গত ১৬ আগস্ট কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতন স্কুলে এ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগ গণমাধ্যমে প্রচার হলে তা ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
কলতান বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বাদল বলেন, ‘আমাদের মানবিক প্রধানমন্ত্রী নাঈমের মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন; এজন্য নাঈমের পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’
সখিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘সখিপুরে মিষ্টি বিতরণ না করে শিক্ষার্থী নাঈমের ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের পাশে দাঁড়ালেন সহপাঠীরা—এমন সংবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি মঙ্গলবার সকালে ফোন করে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং ক্যান্সার আক্রান্ত ওই মায়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।’
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী অ্যাড. আহমেদ আযম খান মুঠোফোনে জানান, ‘যখন প্রধানমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমে জানতে পেরেছেন, কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের একজন শিক্ষার্থীর মা ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা মিষ্টি না খেয়ে ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে মোট ৪০ হাজার টাকা ওই মাকে সহায়তা দিয়েছে, তখন বিষয়টি জেনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফোন করেন। তিনি আমাকে ওই ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের বাড়িতে ও স্কুলে যাওয়ার এবং ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য কী কী সহায়তা প্রয়োজন তা জানার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক কিছু সহায়তা দেওয়ার এবং পরবর্তীতেও এই সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী আমি আগামী শনিবার ওই ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের বাড়িতে যাব এবং কলতান বিদ্যানিকেতনে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ধন্যবাদ জানাব।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

