ভিটামিন ট্যাবলেট খেলেও কি লিভারের রোগ হয়— যে ৫ অভ্যাসে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি

ভিটামিন ট্যাবলেট খেলেও কি লিভারের রোগ হয়— যে ৫ অভ্যাসে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি
ছবি: সংগৃহীত

লিভারের রোগ মানেই শুধু অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া বা মদ্যপানের কারণে সমস্যা—এমনটা নয়। প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসও লিভারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এমন কিছু অভ্যাস রয়েছে, যেগুলো নিয়মিত চলতে থাকলে লিভারের সমস্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সময় থাকতেই এসব অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

লিভারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন পাঁচটি অভ্যাস তুলে ধরা হলো—

অতিরিক্ত ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট

ত্বক ভালো রাখা কিংবা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর আশায় অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ভিটামিন ‘এ’ বা মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট সেবন করেন। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভিটামিন গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ভিটামিন ‘এ’ জলে দ্রাব্য নয়। ফলে শরীরে অতিরিক্ত ভিটামিন ‘এ’ প্রবেশ করলে তা লিভারে জমা হতে পারে। অতিরিক্ত ভিটামিন শরীরে টক্সিন হিসেবে জমা হয়ে লিভারের কোষের ক্ষতি করতে পারে বলে চিকিৎসকেরা মনে করেন।

তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মাত্রায় ভিটামিন বা মাল্টিভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

প্লাস্টিকের বোতল ও কৌটো ব্যবহার

প্লাস্টিকের জলের বোতল কিংবা টিফিন বাক্সে থাকা বিসফেনল-এ (বিপিএ) ও থ্যালেটের মতো রাসায়নিক নিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বলা হয়। গরম খাবার বা পানি এসব প্লাস্টিকের পাত্রে রাখলে কিছু রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

এসব রাসায়নিক শরীরে হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দিতে পারে। এর ফলে বিপাকক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হয়ে লিভারে মেদ জমার আশঙ্কা বাড়তে পারে।

তাই গরম খাবার বা পানি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

প্রসাধনসামগ্রীর অতিরিক্ত ব্যবহার

বিভিন্ন প্রসাধনীতে থাকা রাসায়নিক নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে নিম্নমানের বা অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত মেকআপ ও লিপস্টিক দীর্ঘদিন বেশি ব্যবহার করলে শরীরে ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রবেশের আশঙ্কা থাকে।

এ ধরনের রাসায়নিক রক্তে জমা হয়ে লিভারে প্রদাহ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়। তাই প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানসম্মত পণ্য বেছে নেওয়া এবং অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলা ভালো।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ

কিছু ব্যথানাশক ওষুধ লিভারের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। আবার কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে লিভারের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অনেকে ঘুমের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ঘুমের ওষুধ খাওয়া শুরু করেন। দীর্ঘদিন এভাবে ওষুধ সেবনের অভ্যাসও লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

তাই যেকোনো ওষুধ, বিশেষ করে দীর্ঘদিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া

শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দিতে পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। গরম পানিতে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় টকদইয়ের মতো প্রোবায়োটিক খাবার রাখা যেতে পারে।

তেল-মশলাদার খাবার খেলে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। এ সময় কোমল পানীয় বা সোডাযুক্ত পানীয় পান করলে বরং সমস্যা বাড়তে পারে।

সচেতন থাকুন

লিভার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসও এর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ভিটামিন বা ওষুধ সেবন, প্লাস্টিকের পাত্রে গরম খাবার বা পানি রাখা, অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত পানি না খাওয়ার মতো অভ্যাসে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সময় থাকতেই এসব অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা গেলে লিভারকে সুস্থ রাখার পথে তা সহায়ক হতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন