হৃদরোগ এখন শুধু বয়স্ক মানুষের সমস্যা নয়। পরিবর্তিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, মানসিক চাপ, ধূমপান এবং স্থূলতার কারণে তরুণদের মধ্যেও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে। হ্যালো ডাক্তার বিভাগে আজ আমরা কথা বলব হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহের সঙ্গে।
প্রশ্ন : গতকাল বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় কী ছিল?
উত্তর : প্রতিবছর ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত হয়। হৃদরোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা, ঝুঁকির কারণগুলো সম্পর্কে জানানো এবং হৃদস্বাস্থ্য রক্ষায় সবাইকে উৎসাহিত করাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, ‘Don't miss a beat.’ মানে কোনো হৃৎস্পন্দন, কোনো সতর্ক সংকেত যেন উপেক্ষিত না হয়।
প্রশ্ন : হৃদরোগ কেন হয়? এর অন্যতম কারণগুলো কী?
উত্তর : হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে চর্বি ও কোলেস্টেরল জমে যাওয়া। এর ফলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপও হৃদস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রশ্ন : হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখতে কোন নিয়মগুলো মানা উচিত?
উত্তর : প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত শাকসবজি ও ফল রাখুন। অতিরিক্ত লবণ, চিনি, ভাজাপোড়া এবং চর্বিযুক্ত খাবার কমিয়ে দিন। মাছ, ডাল, পূর্ণ শস্য ও পরিমিত স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার বেছে নেওয়া ভালো। ধূমপান শুধু নিজের নয়, আশপাশের মানুষেরও ক্ষতি করে। তাই ধূমপান ও সব ধরনের তামাকজাত পণ্য থেকে দূরে থাকা জরুরি। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরল অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
প্রশ্ন : সুস্থতার প্রয়োজনে জীবনযাত্রায় কী ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন?
উত্তর : প্রতিদিনের জীবনযাপনে ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তনও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কিছুটা বেশি ঘুম, কয়েক মিনিট বেশি হাঁটা এবং খাবারে একটু বেশি শাকসবজি যোগ করার মতো সহজ অভ্যাস দীর্ঘ মেয়াদে উপকার হতে পারে। অর্থাৎ সুস্থ থাকার জন্য একদিনেই জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন নেই। বরং নিয়মিতভাবে ছোট ছোট ভালো অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন : হৃদরোগ প্রতিরোধে করণীয় কী
উত্তর : হৃদরোগ প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সবার ভূমিকা রয়েছে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত খেলাধুলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পরিবারের সদস্যদেরও ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যাদের পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

