আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ডেঙ্গু রোগীদের স্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপ, ফলের রস খাওয়ানো উচিত

নজরুল ইসলাম

ডেঙ্গু রোগীদের স্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপ, ফলের রস খাওয়ানো উচিত

হাসপাতালগুলোয় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ডেঙ্গু থেকে রেহাই পেতে কী ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়? এ ছাড়া ডেঙ্গু রোগীকে কী ধরনের খাবার খাওয়ানো উচিত? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আজকের হ্যালো ডাক্তারের অতিথি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. এনামুল হক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নজরুল ইসলাম

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন : ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের প্রকোপ কেন এতটা বেড়েছে বলে আপনি মনে করেন?

উত্তর : বর্তমানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো অপর্যাপ্ত মশা নিয়ন্ত্রণ, নগরায়ণের বিশৃঙ্খলা, জলাবদ্ধতা, সরকারি-সিটি করপোরেশনের অব্যবস্থাপনা-অবহেলা এবং সচেতনতার অভাব। মানুষ বাড়ির চারপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করে না, যা এডিস মশার প্রজননের আদর্শ স্থান।

প্রশ্ন : ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মধ্যে উপসর্গের পার্থক্য কীভাবে বোঝা যায়?

উত্তর : ডেঙ্গুতে সাধারণত জ্বর, চোখের পেছনে ব্যথা, প্রচণ্ড মাংসপেশির ব্যথা এবং রক্তপাতের ঝুঁকি দেখা যায়। অন্যদিকে, চিকুনগুনিয়ায় তীব্র জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, বিশেষ করে হাড় ও গিঁটেব্যথা-প্রদাহ বেশি হয়, যা অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ত্বকে লালচে দাগ বেশি হয়। দুটিতেই জ্বর থাকলেও লালচে দাগ, ব্যথার তীব্রতা ও কোথায় কোথায় কমবেশি ব্যথা তা থেকে পার্থক্য বোঝা যেতে পারে।

প্রশ্ন : প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে?

উত্তর : প্রাথমিক লক্ষণ যেমন জ্বর, মাথাব্যথা বা শরীর ব্যথা দেখা দিলে রোগীকে বিশ্রামে থাকতে হবে, প্রচুর পানি পান করতে হবে এবং নিজে থেকে কোনো ব্যথানাশক ওষুধ (যেমন অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন) খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, কারণ ভুল ওষুধ রোগের জটিলতা বাড়াতে পারে।

প্রশ্ন : ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীরা কোন ধরনের খাবার খাবে এবং কোন খাবার এড়িয়ে চলবে?

উত্তর : ডেঙ্গু রোগীদের পানি ও তরলজাতীয় খাবার বেশি খাওয়ানো উচিত। যেমন : ওরাল স্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপ, ফলের রস ও সহজপাচ্য খাবার। পেঁপে পাতার রস কিছু ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে (মেডিকেল সায়েন্সে প্রমাণিত নয়)। ফ্রিজের ঠান্ডা খাবার, তেল-ঝাল বা কেমিক্যালযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

প্রশ্ন : মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে কী ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে?

উত্তর : মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো মশার বিস্তার রোধ করা। বাড়ির চারপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব, কুলার, ছাদ বা পরিত্যক্ত পাত্র নিয়মিত ফেলে দেওয়া উচিত। মশারি ব্যবহার, মশা নিরোধক স্প্রে ও লোশন ব্যবহার করাও কার্যকর। এলাকাভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিও অপরিহার্য।

লেখক : মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক

কনসালট্যান্ট, ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, উত্তরা, ঢাকা

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন