বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি আপনি ঠিক কবে থেকে শুরু করেছিলেন?
বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষ থেকে শুরু করেছিলাম। ১৪শ বিজেএস এক্সামে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিচারক হিসেবে একটা বড় সংখ্যা সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় তা আমাদের কাছে অত্যন্ত প্রভাব রেখেছিল। তার পর থেকে নিয়মিত পড়াশোনার মাধ্যমে আমার প্রস্তুতি শুরু হয়।
শুরুতে আপনার প্রস্তুতির রুটিন কেমন ছিল? প্রতিদিন গড়ে কত ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন?
শুরুতে আমি জুডিশিয়ারির সিলেবাসে থাকা প্রথম বর্ষের আইনগুলো পড়া শুরু করি। কারণ সেগুলোয় যথাযথ প্রস্তুতি ছিল না। সঙ্গে জেনারেল অংশের বিজ্ঞান ও গণিত অংশ পড়তে শুরু করি। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বোর্ড বইগুলো এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এরপর দ্বিতীয় বর্ষে থাকা আইনগুলো এবং জেনারেলের অন্যান্য বিষয় পড়া শুরু করি। এভাবে দৈনিক সাত-আট ঘণ্টা পড়াশোনার মাধ্যমে আমার বিজেএস এক্সামের প্রস্তুতি শুরু হয়।
শুধু বই পড়া, নাকি প্রশ্ন সমাধান, মডেল টেস্ট, লিখিত অনুশীলন—কোন পদ্ধতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন?
আমি যখন কোনো আইন পড়তাম, তখন একই সঙ্গে কয়েকটা কাজ করতাম। আইনের বেয়ার অ্যাক্ট দাগিয়ে দাগিয়ে ভালো করে আয়ত্ত করতাম। ব্যাখ্যা জানার দরকার হলে ব্যাখ্যামূলক বিভিন্ন বই পড়তাম এবং ইউটিউবে বাংলাদেশ, ভারত বা পাকিস্তানের বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও দেখতাম। এরপর বিগত বছরে কোন কোন প্রশ্ন এসেছিল, সেটা দেখে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো আবার আয়ত্ত করতাম। সবশেষে বিভিন্ন সহায়ক বই থেকে আলোচনা অংশটুকু পড়ে সেখানে থাকা প্রশ্নগুলো চর্চা করতাম। আমি মনে করি, এভাবে আমি যথাযথ প্রস্তুতি নিতে সক্ষম হয়েছি।
আপনার প্রস্তুতির সবচেয়ে কার্যকর কৌশল কী ছিল?
বেশি বেশি বেয়ার অ্যাক্ট পড়া, দৈনিক পত্রিকা পড়া, প্রতিটি বিষয়ের সংক্ষিপ্ত নোট করে সেগুলো বারবার পড়া এবং বন্ধু ও জুনিয়রদের সঙ্গে গ্রুপ স্টাডি করা আমার প্রস্তুতির সবচেয়ে কার্যকর অংশ ছিল বলে আমি মনে করি।
মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য ব্যস্ততা থেকে নিজেকে কীভাবে দূরে রেখেছেন?
মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আমি মোটেও দূরে রাখিনি। বরং মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাকে অনেক ক্ষেত্রে প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করেছে। ইউটিউবে বিভিন্ন চ্যানেল, ফেসবুকের বিজেএস প্রস্তুতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন গ্রুপ এবং পেজ, গুগল এবং চ্যাটজিপিটির দেওয়া বিভিন্ন উত্তর আমার প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অনেকেই একাধিকবার চেষ্টা করেও বিজেএসে সফল হতে পারেন না। আপনার ক্ষেত্রে প্রথমবারেই সফল হওয়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ কী বলে মনে করেন?
একাধিকবার চেষ্টা করেও সফল হতে না পারার জন্য ভাগ্য অনেক বড় একটা কারণ। তবে অনেকের ক্ষেত্রে নিজের ত্রুটি খুঁজে বের না করে নিজেকে আরো গোছানো ও পরিশীলিত করতে না পারা বারবার ব্যর্থ হওয়ার প্রধান নিয়ামক বলে আমি মনে করি।
আপনার প্রস্তুতিতে এমন কোনো ভুল ছিল, যেটা পরে বুঝেছেন এবং ঠিক করেছেন?
আমি শুরুর দিকে বেশি সময় নিয়ে পড়ার চেষ্টা করতাম; কিন্তু কতটুকু কী পড়েছি, সেটাতে গুরুত্ব দিতাম না। পরে বুঝতে পেরেছি, বেশি সময় পড়া মুখ্য নয়; বরং সেই সময়টুকু কতটা ভালোভাবে কাজে লাগিয়ে বেশি বেশি পড়া যায়, সেটা জরুরি।
লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে আপনার কৌশল কী ছিল?
লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে আমার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক ছিল প্রশ্নের উত্তর গুছিয়ে লিখতে পারা, কোনো বানান ভুল বা কাটাকাটি না হওয়া। প্রতিটি পরীক্ষায় আমি এটা মেইনটেইন করার চেষ্টা করেছি। এছাড়া পরীক্ষা শুরুর আগে প্রতিটি প্রশ্ন ভালো করে পড়ে সেগুলোর জন্য সময় ভাগ করে পরীক্ষা দিয়েছি।
উত্তর লেখার সময় কোন বিষয়গুলোয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন?
কোনো প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় আমি প্রথমে তা নিজের ভাষায় লিখেছি। তারপরে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা এবং বিষয়বস্তু উল্লেখ করেছি। ক্ষেত্রবিশেষে মামলার উদ্ধৃতি এবং আইনের বিভিন্ন ম্যাক্সিম উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি। শেষে নিজের ভাষায় উপসংহার টানার চেষ্টা করেছি।
মৌখিক পরীক্ষার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
ভাইভার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এবং ভাইভার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ভাইভার জন্য যেসব দুশ্চিন্তা করেছিলাম, সেগুলো ভাইভায় প্রবেশের পরে আর কিছুই ছিল না। ইতোমধ্যে আমার দুটি সরকারি চাকরির ভাইভায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা থাকায় শান্ত থেকে ভাইভা সম্পন্ন করতে পেরেছি। ভাইভা বোর্ডের স্যার-ম্যামরা খুব আন্তরিক থাকায় প্রায় সব প্রশ্নের উত্তর নির্ভয়ে করতে পেরেছিলাম।
আইন অনুষদের যেসব শিক্ষার্থী সামনে বিজেএস দিতে চান, তাদের প্রথম পরামর্শ কী দেবেন?
যেসব শিক্ষার্থী সামনে বিজেএস এক্সামে বসবে, তাদের জন্য আমার পরামর্শ হলো—নিজের লক্ষ্যে অটল থেকে একাগ্রচিত্তে প্রস্তুতি নিয়ে যেতে হবে। যারা সফল তাদের সফল হওয়ার কারণ এবং যারা ব্যর্থ তাদের ব্যর্থ হওয়ার কারণ জেনে সে অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করে তবেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
বিজেএস প্রস্তুতি কখন থেকে শুরু করা উচিত বলে মনে করেন?
এলএলবির (অনার্স) প্রতিটি কোর্সই যেহেতু কোনো না কোনোভাবে বিজেএস পরীক্ষার সিলেবাসের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেহেতু প্রতিটি কোর্স শুরু থেকে ভালো করে আয়ত্ত করতে হবে। প্রথম বর্ষ থেকেই অল্প অল্প করে জেনারেল অংশে প্রস্তুতি নিতে শুরু করলে অনার্স শেষ হতে হতেই খুব সহজে পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

