আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ইনসাফের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান ইউটিএলের

প্রতিনিধি, ঢাবি

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ইনসাফের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান ইউটিএলের

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ন্যায়, ইনসাফ এবং জনগণের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। একই সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউটিএলের আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. যুবায়ের মুহাম্মদ এহসানুল হক।

তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় রূপান্তরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নয়; বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও শাসনব্যবস্থার চরিত্র নির্ধারণের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।

তিনি বলেন, গত দেড় দশকে রাষ্ট্র পরিচালনায় বৈষম্য, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জবাবদিহিতার অভাব স্পষ্ট হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন খাতে জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই আত্মত্যাগ ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের নৈতিক দায় সৃষ্টি করেছে।

গণভোট প্রসঙ্গে অধ্যাপক যুবায়ের বলেন, এটি কোনো সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামোর ভিত্তি নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ রোধ, আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে মানুষের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তাই নির্বাচন ও গণভোটে ভয়ভীতি ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে নিরপেক্ষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোট গণনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক যুবায়ের বলেন, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা যৌক্তিক হতে পারে। তবে কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে তিনি হঠকারী বলে মন্তব্য করেন।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান নিশ্চিত করতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদ সম্মেলনে ইউটিএলের সদস্য সচিব ড. বেলাল হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেনসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...