আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রোগ নির্ণয়ে পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহার

মুসা আল হাফিজ

রোগ নির্ণয়ে পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহার

বর্তমান পৃথিবীতে আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা বিজ্ঞানেও বেশ উন্নতি হয়েছে। একটা সময় ছিল যখন রোগ শনাক্ত করতে না পারায় অনেকেরই মৃত্যু হতো। কী রোগ হয়েছে, তা বোঝার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এর ফলে মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছিল। কিন্তু বর্তমান পৃথিবীতে চিকিৎসা শাস্ত্রের অনেকটাই অগ্রগতি হয়েছে, যেজন্য এখন রোগ শনাক্ত করে সঠিক মেডিসিনের মাধ্যমে নির্মূল করা অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে। এই রোগ নির্ণয় করতে গিয়ে আমাদের অনেক ধরনের টেস্ট করতে হয়। প্রথমত, ডাক্তাররা সাধারণ টেস্ট দিয়ে থাকেন; কিন্তু যদি তাতে সঠিক রোগ নির্ণয় না হয়, তাহলে তারা বিকল্প হিসেবে শক্তিশালী পরমাণু টেস্ট দিয়ে থাকেন। এর মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। পরমাণু হলো অনেক পাওয়ারফুল প্রযুক্তি। এটির মাধ্যমে যত ক্ষুদ্র রোগই হোক না কেন তা শনাক্ত করা সম্ভব। পরমাণু শক্তি তথা তেজস্ক্রিয় রেডিও আইসোটোপ ব্যবহার করে রোগ নির্ণয় করা হয় এবং এ ক্ষেত্রে বিশেষে চিকিৎসা এবং গবেষণা করা হয়। এটি একটি আরামদায়ক টেস্ট এবং এর ক্ষতিকর দিকগুলো একেবারেই অল্প। এটি মূলত তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে নির্গত বিকিরণ ব্যবহার করে জটিল, কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদি পুরোনো রোগ নির্ণয় করে। যেমন আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করে পেটের সমস্যা শনাক্ত করা হয় এবং রক্ত পরীক্ষা করে নানা হরমোনের লেভেল টেস্ট করা হয়।

পরমাণু কী? এটি এমন একটি পদার্থ, যা অতি ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতম কণা দিয়ে গঠিত। এই কণাগুলোর নাম পরমাণু। ১৮৯৮ সালে বিজ্ঞানী জে জে থমসন এই মডেল প্রস্তাব করেন। এই মডেল অনুসারে পুডিংয়ের ভেতর কিশমিশ যেমন বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকে, পরমাণুতে ঠিক তেমনি নিরবচ্ছিন্নভাবে বণ্টিত ধনাত্মক আধানের মধ্যে ইলেকট্রন ছড়িয়ে আছে। এটিই ছিল প্রথম উপস্থাপিত পরমাণু মডেল। সেখান থেকেই মূলত এটির ব্যবহার শুরু হয়। এ প্রক্রিয়া শুধু চিকিৎসা শাস্ত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নানা বড় বড় প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়। তবে সবচেয়ে খুশির বিষয় হলো, এখন বাংলাদেশের অধিকাংশ সরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এগুলোর ব্যবহার শুরু হয়েছে। মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী ক্যানসার রোগের ক্ষেত্রে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ব্যবহার করে ক্যানসারের কোষগুলো ধ্বংস করা হয়। ফলে রোগী অনেকটাই স্বস্তি বোধ করে এবং তার আয়ু অনেকটাই বেড়ে যায়। মানবশরীরে ক্যানসারের কোষগুলো বিস্তার লাভ করলে তা যদি নির্ণয় করা না যায়, তাহলে তাকে বাঁচানোর কোনো উপায় থাকে না; তাই মানবজীবনের এই ক্রান্তিকালে পরমাণু ব্যবহার করে ক্ষতিকর কোষগুলো ধ্বংস করে অনেকটাই স্বস্তি এনে দেয় এই প্রযুক্তি। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ কঠিন ও জটিল রোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করতে পারে না, কারণ তাদের বিশ্বাস হলো এদেশে সঠিক রোগ নির্বাচন করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় ডাক্তাররা রোগ ধরতে না পেরে পাওয়ারফুল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন, যার ফলে রোগী অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এর ফলে দেশের মানুষ বিদেশে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়। এর একটাই কারণ—আমাদের দেশে পর্যাপ্ত প্রযুক্তি না থাকা। তাই বেশি বেশি পরমাণু ব্যবহারের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা দিয়ে মানুষের মন জয় করা এবং তাদের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করা একান্তই আমাদের কর্তব্য।

বিজ্ঞাপন
Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...