বর্তমান ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি এতটাই উন্নত হয়েছে যে এআই দিয়ে তৈরি ছবি এবং বাস্তব ছবির মধ্যে পার্থক্য করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। মিডজার্নি, ডাল-ই এবং স্টেবল ডিফিউশনের মতো টুলগুলো এমন বাস্তবসম্মত ছবি তৈরি করতে পারে, যা প্রথম দর্শনে সত্যিকারের ফটোগ্রাফ বলে মনে হয়। তবে সঠিক জ্ঞান ও কৌশল প্রয়োগ করে এআই-জেনারেটেড ছবি শনাক্ত করা সম্ভব। এই আর্টিকেলে আমরা জানব, কীভাবে এআই দিয়ে তৈরি ছবি চিনতে পারবেন এবং কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। প্রথমেই বলে রাখা ভালো, এআই-জেনারেটেড ছবি চেনার কোনো নিখুঁত পদ্ধতি নেই, কারণ প্রযুক্তি প্রতিদিন উন্নত হচ্ছে। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ ও কৌশল আপনাকে সাহায্য করতে পারে।
মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য : এআই প্রযুক্তির সবচেয়ে সাধারণ দুর্বলতা হলো মানুষের শরীরের জটিল অংশগুলো সঠিকভাবে তৈরি করতে না পারা। হাত ও আঙুল এআইর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ছবিতে যদি হাত থাকে, তাহলে খেয়াল করুন—আঙুলের সংখ্যা পাঁচটি আছে কি না, আঙুলগুলো স্বাভাবিক দৈর্ঘ্য ও অনুপাতে আছে কি না, হাতের ভাঁজ ও নখ সঠিকভাবে আঁকা আছে কি না। অনেক সময় এআই-জেনারেটেড ছবিতে ছয় বা সাতটি আঙুল থাকে, অথবা আঙুলগুলো অস্বাভাবিকভাবে লম্বা বা বাঁকা হয়ে থাকে। হাতের পেছনের অংশ ও কবজির সংযোগস্থলও অপ্রাকৃতিক মনে হতে পারে। চোখের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিন। মানুষের দুচোখ সাধারণত একই আকার এবং একই দিকে তাকিয়ে থাকে। এআই দিয়ে তৈরি ছবিতে প্রায়ই দুই চোখের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য লক্ষ করা যায়। একটি চোখ সামান্য বড় বা ছোট হতে পারে, অথবা দুই চোখের দৃষ্টিরেখা ভিন্ন দিকে থাকতে পারে।
পোশাক পর্যবেক্ষণ : গহনা, ঘড়ি বা অন্যান্য অলংকারের দিকে মনোযোগ দিন। এআই প্রায়ই এগুলোর জটিল ডিজাইন, প্রতিসাম্য এবং ত্রিমাত্রিক গঠন সঠিকভাবে তৈরি করতে পারে না। কানের দুল, নেকলেস বা আংটিতে অদ্ভুত আকৃতি বা অসম্পূর্ণ প্যাটার্ন থাকতে পারে। চশমা পরা থাকলে ফ্রেমের প্রতিসাম্য, লেন্সের প্রতিফলন এবং কানের সঙ্গে সংযোগ পরীক্ষা করুন।
পটভূমি ও পরিবেশগত দিক : ছবির পটভূমি খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করুন। এআই দিয়ে তৈরি ছবিতে পটভূমি প্রায়ই অস্পষ্ট, বিকৃত বা অযৌক্তিক হয়। জানালা, দরজা বা আয়নার মতো বস্তুগুলো অসমতল বা অসম্পূর্ণ হতে পারে। স্থাপত্য উপাদান, যেমন দেয়াল, মেঝে বা সিলিং অস্বাভাবিক কোণে থাকতে পারে। প্রতিসাম্য থাকা উচিত এমন বস্তু, যেমন জানালার ফ্রেম বা দরজার প্যানেল অসমান হতে পারে।
আলো ও ছায়ার সামঞ্জস্য : পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম অনুসারে আলো ও ছায়া একটি নির্দিষ্ট দিক থেকে আসে এবং সব বস্তুতে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পড়ে। এআই দিয়ে তৈরি ছবিতে প্রায়ই আলোর উৎস অসংগতিপূর্ণ হয়। কোনো ব্যক্তির মুখে আলো বাঁ দিক থেকে আসছে, কিন্তু পটভূমিতে ছায়া ডান দিকে পড়ছে—এমন হতে পারে। চোখে আলোর প্রতিফলন চেক করুন; দুই চোখে একই প্রতিফলন থাকা উচিত, যদি একই আলোর উৎস থাকে।
প্রযুক্তিগত টুল ও পদ্ধতি ব্যবহার করুন : চাক্ষুষ পরীক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন টুল এবং সফটওয়্যার ব্যবহার করে এআই দিয়ে তৈরি ছবি শনাক্ত করতে পারেন। গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চ বা TinEye-এর মাধ্যমে ছবিটি খুঁজে দেখুন। যদি একই ছবি অনলাইনে অন্য কোথাও পাওয়া যায়, তাহলে এর উৎস এবং প্রসঙ্গ যাচাই করতে পারবেন। বিশেষায়িত এআই ডিটেক্টর টুল রয়েছে, যেগুলো মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ছবি বিশ্লেষণ করে। Hive Moderation, Illuminarty, Optic AI or Not ও AI Image Detector-এর মতো টুলগুলো ব্যবহার করতে পারেন। এই টুলগুলো ছবির পিক্সেল প্যাটার্ন, সংকোচন আর্টিফ্যাক্ট এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে। তবে মনে রাখবেন, এই টুলগুলোও শতভাগ নির্ভুল নয় এবং ভুল ফলাফল দিতে পারে। ছবির মেটাডেটা বা EXIF ডেটা পরীক্ষা করুন। বাস্তব ক্যামেরায় তোলা ছবিতে ক্যামেরা মডেল, লেন্সের তথ্য, সেটিংস ও জিওলোকেশনের মতো তথ্য থাকে। এআই দিয়ে তৈরি ছবিতে এই তথ্য থাকবে না, বা জেনেরিক সফটওয়্যার তথ্য থাকবে। তবে সাবধান, মেটাডেটা সহজেই যোগ করা বা অপসারণ করা যায়, তাই শুধু এটির ওপর নির্ভর করবেন না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

