ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদকে ইমেরিটাস অধ্যাপক পদে উন্নীত করা হয়েছে। তারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. ইউসুফ হায়দার, বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস ইসলাম এবং ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম আমার দেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৯ জন শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক ড. এ.এফ. এম. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান, অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক ও অধ্যাপক ড. এ. কে. আজাদ চৌধুরী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী একজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ, মানববিজ্ঞানী ও লেখক।
তিনি প্রায় ৪২ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং ইউজিসির পূর্ণকালীন সদস্যসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ভারত ও যুক্তরাজ্য থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাহরাইনে রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধি ছিলেন। অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রায় ২৪টি গ্রন্থের রচয়িতা।
অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. ইউসুফ হায়দার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য ছাড়াও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, সূর্য সেন হলের প্রভোস্ট এবং সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উপ-উপাচার্য থাকাকালে তিনি সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেস (কারস) প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে আধুনিক অপটিক্স ও লেজার গবেষণাগার স্থাপন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান ১৯৭৮ সালে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন এবং ১৯৯২ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। তিনি দুই মেয়াদে ফার্মেসি অনুষদের ডিন এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
একাডেমিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি ১৯৯৩–১৯৯৭ মেয়াদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওষুধ প্রশাসনের পরিচালক, ২০০৫–২০০৮ মেয়াদে বিসিএসআইআর চেয়ারম্যান এবং ২০১২–২০১৬ মেয়াদে মানারাত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণয়নে তার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক শিক্ষক। তিনি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, রোকেয়া হলের প্রভোস্ট এবং রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

