২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের যেসব শিক্ষার্থীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর ছাত্রত্ব নেই, তারা আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী বা ভোটার হিসেবে অংশ নিতে পারবেন না- এমন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ডাকসু নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
তিনি বলেন, “সব ছাত্রসংগঠনই ২০১৮-১৯ সেশনকে নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছিল। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার সুস্পষ্ট পরামর্শ অনুযায়ী, যাদের আর ছাত্রত্ব নেই, তাদের নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত করলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। যে কেউ এ নিয়ে রিট করলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই না আইনের বাইরে গিয়ে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিই, যার ফলে পুরো নির্বাচনী পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তাই আমরা নির্ধারিত আইন ও নীতিমালার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।”
তবে যেসব শিক্ষার্থীর এখনো বৈধ ছাত্রত্ব রয়েছে, তারা প্রার্থী বা ভোটার হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলে নিশ্চিত করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এ সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন ২০১৮-১৯ সেশনের সাবেক ছাত্রনেতারা। তাদের দাবি, ডাকসুর পুনর্জাগরণে এই সেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, অথচ এবার সেই শিক্ষার্থীদের নির্বাচনের বাইরেই রাখা হলো।
এ নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ বলেন, প্রায় বত্রিশটি মিটিং করার পর নির্বাচন কমিশন জানালো ১৮-১৯ ব্যাচের যাদের রেজাল্ট হয়ে গেছে, তারা আর ভোটার-প্রার্থী হতে পারবেনা।
অথচ তাদের এই মিটিং মিটিং খেলার শুরুর সময়ে এরা সবাই ছাত্র-ই ছিলো। আবার সব রাজনৈতিক সংগঠন, টিএসসি ভিত্তিক সংগঠন ১৮-১৯ কে ব্যাচ হিসেবে রাখার পক্ষে। কারণ নির্বাচনের সময় দীর্ঘায়িত করা প্রশাসনের ব্যর্থতা।
তিনি বলেন, একদিকে সেকেন্ড মাস্টার্স বা এমফিল এ ভর্তি হয়ে ১৩-১৪ সেশনের কেউউ ভোটার-প্রার্থী হচ্ছে, আরেকদিকে ১৮-১৯ এর একটা অংশ তাদের সেশনের ভাইব্রাদারকে নির্বাচন করতে দেখবে দর্শক সারিতে বসে। এটি নিছক পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

