রঙিন ও আকর্ষণীয় পাখিদের মধ্যে ম্যাকাও অন্যতম। বড় আকৃতির তোতাজাতীয় এই পাখিটি উজ্জ্বল পালক, বুদ্ধিমত্তা এবং দীর্ঘ জীবনকালের জন্য পরিচিত। দক্ষিণ আমেরিকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চলের বাসিন্দা ম্যাকাও প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি। ম্যাকাও পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Ara এবং এটি সিটাসিডি পরিবারভুক্ত। এই পাখির প্রায় ১৭টি প্রজাতি রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি এরই মধ্যে বিলুপ্ত হয়েছে। ম্যাকাও পাখির দৈহিক গঠন অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। এরা ৩০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং ওজন হয় প্রায় এক থেকে দুই কেজি। এদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো লম্বা লেজ, যা অনেক সময় শরীরের দৈর্ঘ্যের সমান বা তার চেয়েও বড় হয়।
রঙের বৈচিত্র্যে ম্যাকাও পাখি অতুলনীয়। নীল-হলুদ ম্যাকাও, লাল-সবুজ ম্যাকাও, স্কারলেট ম্যাকাও, হায়াসিন্থ ম্যাকাও প্রভৃতি প্রজাতি তাদের নিজস্ব রঙের সমাহারে প্রকৃতিকে সাজিয়ে রাখে। এদের পালকে লাল, নীল, সবুজ, হলুদ, কমলা রঙের অপূর্ব মিশ্রণ দেখা যায়। এই উজ্জ্বল রঙ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং ঘন বনের ভেতর নিজেদের মধ্যে যোগাযোগেও সাহায্য করে।
ম্যাকাও পাখির ঠোঁট অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বাঁকানো। এই ঠোঁট দিয়ে তারা শক্ত বাদাম ও ফলের খোসা সহজেই ভাঙতে পারে। এদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফল, বাদাম, বীজ, ফুল এবং কাদামাটি। কাদামাটি খাবারের সঙ্গে খাওয়া বিষাক্ত পদার্থ নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে।
ম্যাকাও পাখি সামাজিক প্রাণী এবং সাধারণত জোড়ায় বা ছোট দলে বাস করে। একবার সঙ্গী নির্বাচন করলে সারাজীবন এর সঙ্গেই থাকে। এদের প্রজনন মৌসুমে স্ত্রী পাখি গাছের কোটরে দুই থেকে চারটি ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে ২৪ থেকে ২৮ দিন সময় লাগে এবং বাচ্চারা তিন থেকে চার মাস বয়সে উড়তে শেখে।
ম্যাকাও পাখির বুদ্ধিমত্তা অসাধারণ। এরা মানুষের কথা অনুকরণ করতে পারে, বিভিন্ন শব্দ শিখতে পারে এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা রাখে। এদের স্মৃতিশক্তিও প্রখর। এই বুদ্ধিমত্তার কারণেই ম্যাকাও পোষা পাখি হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
ম্যাকাও পাখি দক্ষিণ আমেরিকার সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছে এই পাখি পবিত্র এবং তাদের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে এই পাখির পালক ব্যবহৃত হয় । এদের গড় আয়ু বন্য অবস্থায় ৩০ থেকে ৫০ বছর, তবে যত্ন সহকারে পালন করলে ৮০ বছর বা তারও বেশি বাঁচতে পারে। এদের জোরালো কণ্ঠস্বর মাইল দূর থেকেও শোনা যায়, যা ঘন বনে যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ম্যাকাও পাখি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরা ফল খাওয়ার সময় বীজ ছড়িয়ে দেয়, যা বনের বৃদ্ধি ও পুনর্জন্মে সাহায্য করে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

