অটিজমে স্পিচ থেরাপি

অটিজমে স্পিচ থেরাপি

একটি শিশু কথা বলার বদলে আঙুল দিয়ে পছন্দের খেলনাটি দেখায়, বা কেউ একই কার্টুনের সংলাপ বারবার বলতে থাকে; কিন্তু নিজের প্রয়োজন বোঝাতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয়—প্রয়োজন বোঝাতে পারে না নিজের ইচ্ছামতো। আবার কেউ সাবলীলভাবে কথা বলতে পারলেও কথোপকথনের ধারা বজায় রাখা, অন্যের ইশারা-ইঙ্গিত বুঝতে পারা, কিংবা নিজের অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। এসব অভিজ্ঞতা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারের (Autism Spectrum Disorder – ASD) সঙ্গে সম্পর্কিত যোগাযোগের কিছু উদাহরণ।

বিজ্ঞাপন

স্পিচ থেরাপির লক্ষ্য

স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপির সবচেয়ে বড় ও প্রধান লক্ষ্য হলো ব্যক্তির কার্যকর যোগাযোগ, ভাষা বুঝতে পারা ও প্রকাশ করা, সামাজিকভাবে অংশগ্রহণ এবং দৈনন্দিন জীবনে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো। কথ্য ভাষা ব্যক্তির প্রয়োজন ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে, সেটির বিকাশেও কাজ করা হয়। একই সঙ্গে অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমও কাজে লাগানো হয় । একজন স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট ব্যক্তির যোগাযোগের শক্তি, সীমাবদ্ধতা ও প্রয়োজন মূল্যায়ন করে উপযোগী পরিকল্পনা তৈরি করেন। পরিকল্পনায় ব্যক্তির বয়স, ভাষা বা কথা বিকাশের পর্যায়, পছন্দ, দৈনন্দিন পরিবেশ এবং পরিবারের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে, কোনো শিশু পানি চাইতে না পেরে কান্নাকাটি করলে লক্ষ্য শুধু তাকে ‘পানি’ শব্দটি উচ্চারণ করানো নয়, বরং সে যেন কথা, ইশারা, ছবি বা উপযুক্ত যোগাযোগের মাধ্যমে নিজের চাহিদা প্রকাশ করতে পারে, সে লক্ষ্যে থেরাপিস্ট কাজ করেন। পরে তার সক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী শব্দ, বাক্য ব্যবহার কিংবা কথার দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। থেরাপির লক্ষ্য সবসময় নির্দিষ্ট, বাস্তবসম্মত এবং পর্যবেক্ষণযোগ্য; যেমন শিশু যেন উপযুক্ত যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নিজের পছন্দ জানাতে পারে, সাহায্য চাইতে পারে, অথবা কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে অসম্মতি প্রকাশ করতে পারে। সময়ের সঙ্গে অগ্রগতি পর্যালোচনা করে লক্ষ্য ও কৌশল পরিবর্তন করা হয়।

মূল্যায়ন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

সব অটিস্টিক ব্যক্তির জন্য একই থেরাপি বা একই অনুশীলন কার্যকর হয় না। তাই থেরাপি শুরুর আগে প্রয়োজনভিত্তিক মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন থেরাপিস্ট সাধারণত নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে থাকেন—

• ভাষা বোঝার দক্ষতা : নির্দেশনা, প্রশ্ন, শব্দ ও বাক্যের অর্থ কতটুকু বোঝেন।

• ভাষা প্রকাশের দক্ষতা : কথা, অঙ্গভঙ্গি, ছবি বা অন্য মাধ্যমে কীভাবে নিজের বার্তা জানান।

• সামাজিক যোগাযোগ : কথোপকথন, যৌথ কার্যক্রম ও পারস্পরিক যোগাযোগে কীভাবে অংশ নেন।

• কথ্য ভাষার বৈশিষ্ট্য : শব্দ, বাক্য, উচ্চারণ, কণ্ঠস্বরের সুর এবং বারবার একই কথা ব্যবহারের সম্ভাব্য ভূমিকা।

• বিকল্প যোগাযোগের প্রয়োজন : ছবি, কমিউনিকেশন বোর্ড বা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার প্রয়োজন আছে কি না।

• দৈনন্দিন কার্যকারিতা : বাড়ি, স্কুল, কর্মক্ষেত্র বা সামাজিক পরিবেশে যোগাযোগের কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে এবং কোন ধরনের সহায়তা প্রয়োজন।

এছাড়া ভাষা বিকাশে অভিভাবকের উদ্বেগ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রবণক্ষমতা মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ। শ্রবণসমস্যা ভাষা ও যোগাযোগের বিকাশকে অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবিত করে। প্রয়োজনে অডিওলজিস্টের মাধ্যমে শ্রবণ পরীক্ষা করানো হয়।

অটিজম নির্ণয় এবং অন্যান্য সহাবস্থানকারী অবস্থার মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার্ড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্পিচ থেরাপিস্ট, চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের মাধ্যমে করানো হয়। অভিভাবকদের উচিত রেজিস্টার্ড পেশাজীবীদের শরণাপন্ন হওয়া।

তথ্যসূত্র : হেলথলাইন

লেখক : স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি বিভাগ, ময়মনসিংহ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড হেলথ সায়েন্সেস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন