ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার, শহিদ মিনার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। বৈঠকে ক্যাম্পাসে উদ্বাস্তু, ভবঘুরে ও আশ্রয়হীন ব্যক্তিদের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ‘অ্যাকটিভ মনিটরিং টিম’ গঠন এবং প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বুধবার ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা ও আনাস ইবনে মুনির এসব তথ্য জানান।
বৈঠকে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন ডাকসুর প্রতিনিধিরা। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করা উদ্বাস্তু, ভবঘুরে ও আশ্রয়হীন ব্যক্তিদের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে একটি ‘অ্যাকটিভ মনিটরিং টিম’ গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ধরনের টিম নিয়মিতভাবে ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করবে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে- এমন বিষয়গুলো দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনবে। পাশাপাশি আশ্রয়হীন ও ভবঘুরে ব্যক্তিদের মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। এসব এলাকায় মাদক চালান, মাদকসেবন, শিক্ষার্থীদের হয়রানি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে ডাকসুর পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় শিক্ষার্থীদের চলাচলে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো, সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
এ ছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। কম্পিউটার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক ডিজাইনসহ বর্তমান শ্রমবাজারে চাহিদাসম্পন্ন বিভিন্ন বিষয়ে নারী শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে এ ধরনের সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে ডাকসুর প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনির।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

