রোগীর চিকিৎসা করাতে হলে ডাক্তারের বিকল্প নেই। সাধারণত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলো থেকেই লাখো তরুণ-তরুণীর ডাক্তার হয়ে ওঠার যাত্রা শুরু হয়। মেডিকেল শিক্ষা নিয়ে আজ আমরা ‘হ্যালো ডাক্তার’ বিভাগে কথা বলব স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেনের সঙ্গে।
প্রশ্ন : একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল উদ্দেশ্য ও ভূমিকা কী?
উত্তর : মেডিকেল কলেজ স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে চিকিৎসক তৈরি করা। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সরকারি ৩৭টি এবং বেসরকারিসহ ১১২টি মেডিকেল কলেজ আছে। এগুলোতে এমবিবিএস ডিগ্রি দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে আমাদের দেশে এমবিবিএস চিকিৎসক তৈরির উদ্যোগ পূরণ করা হয়। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হচ্ছে মেডিকেল কলেজের সংশ্লিষ্ট ল্যাবরেটরির মতো। অর্থাৎ যারা মেডিকেল কলেজে পড়তে আসবেন, তাদের তো রোগী দেখতে হবে, রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া শিখতে হবে, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলো তৈরি করা হয়, মেডিকেল কলেজকে এই সাপোর্ট দেওয়ার জন্য। এগুলো আমরা একাডেমিক হাসপাতাল বলে থাকি। যদিও এগুলো অনেক ক্ষেত্রে সার্ভিস হাসপাতাল হিসেবে কাজ করে, তবু এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেওয়া। এর পাশাপাশি স্বাভাবিকভাবে রোগীরাও এখানে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।
প্রশ্ন : সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর মান উন্নয়নের জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
উত্তর : বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আপনারা জানেন, বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনি মেনিফেস্টোতে মেডিকেল শিক্ষার মান উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। সেই আলোকে বেশ কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুরোনো যে আটটি মেডিকেল কলেজ রয়েছে, সেগুলো ১৯৪৬ থেকে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত। এগুলোর মধ্যে অনেকগুলো বেশ পুরোনো হয়ে গেছে, মাঝেমধ্যে খবর আসে বিভিন্ন জাগায় ছাদ ভেঙে পড়েছে। সেগুলো রিপ্লেস করার জন্য কতগুলো উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জন্য তৈরি করা ডিপিপি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ১৯৯২-৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ৫০ আসনের যে পাঁচটি মেডিকেল কলেজ তৈরি করেছিলেন, সেগুলোয় এখন ২০০ শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হচ্ছে। ফলে ২০০ শিক্ষার্থীর জন্য যা যা উন্নয়নমূলককাজ করা দরকার, সেটির জন্য আরেকটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। অন্যান্য মেডিকেল কলেজের উন্নয়নে ও নানা উদ্যোগ গৃহীত হচ্ছে।
প্রশ্ন : ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজগুলোয় ভর্তি পরীক্ষার অগ্রগতি কতদূর?
উত্তর : মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য ১ লাখ ২২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী আমাদের কাছে আবেদন করেছিল। আর বেসরকারি মেডিকেল কলেতাদের মধ্যে ৫ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী সরকারি ৩৭টি প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাবেন। আর বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোয় ৬২৭৮ শিক্ষার্থী সুযোগ পাবেন। সব মিলিয়ে ১১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সুযোগ পাবেন।
প্রশ্ন : নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য মেডিকেল কলেজগুলো বিশেষ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে কি না?
উত্তর : হ্যাঁ, এবার বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথমত, তারা যেদিন ক্লাস শুরু করবেন, সেদিন কেন্দ্রীয়ভাবে একটা নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। অনলাইনে মেডিকেল কলেজগুলো এই অনুষ্ঠানে যুক্ত থাকবে। এক ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানের পর কলেজগুলো আলাদাভাবে নবীনবরণ অনুষ্ঠান করবে। এবার আরো কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়েছে, ওইদিন প্রত্যেক শিক্ষার্থী একটি করে গাছ লাগাবেন। একজন শিক্ষার্থী একটি বৃক্ষ, এই কর্মসূচি আমরা গত বছরেও করেছি এবং বেশ সাড়া পেয়েছি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিবেশের প্রতি যে দায়িত্ব রয়েছে, সে দায়িত্বও পালন হয়।
প্রশ্ন : হাম পরিস্থিতি বর্তমানে কী পর্যায়ে আছে? এটি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে?
উত্তর : হাম প্রতিরোধে সরকার যে কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে, প্রথমদিকে হাম বেশ আতঙ্ক ছড়ায় আর তাই সরকার খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিয়েছে। হামের ২ কোটি ১৯ লাখ টিকা সংরক্ষিত রাখা ছিল। চার দিনের মধ্যে সারা দেশে ক্যাম্পেইন চালিয়ে টিকাগুলো দেওয়া হয়। ছয় মাস বয়স থেকে ৫৯ মাস বয়সি বাচ্চারা এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতালে হামের চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সার্বিকভাবে আমরা এর সুফল পাচ্ছি, হামের যে ভয়াবহতা ছিল, সেটি এখন কিছুটা কমে এসেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

