উচ্চশিক্ষার সনদ পেলেই প্রকৃত শিক্ষা হয় না: চট্টগ্রামের ডিসি

উচ্চশিক্ষার সনদ পেলেই প্রকৃত শিক্ষা হয় না: চট্টগ্রামের ডিসি
ছবি: আমার দেশ

জিপিএ-৫ কিংবা উচ্চশিক্ষার সনদ অর্জন করলেই প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হয় না। জ্ঞানকে সততা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে ধারণ করে সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠাই শিক্ষার মূল লক্ষ্য। মাদক ও অপসংস্কৃতির ছোবল থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করে মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনবিষয়ক মতবিনিময় সভা এবং পরে মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখীল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাদকবিরোধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল কিংবা উচ্চ ডিগ্রি অর্জনই শিক্ষার সাফল্যের মাপকাঠি নয়। একজন শিক্ষার্থী কতটা সৎ, মানবিক ও দায়িত্বশীল হয়ে উঠছে, সেটিও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে। বড়দের শ্রদ্ধা এবং ছোটদের স্নেহ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের দক্ষ, সৎ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষক ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

মাদক প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করে না, একটি পরিবারকে বিপর্যস্ত করার পাশাপাশি পুরো সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

এর আগে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, জনগণের কল্যাণই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। মানুষের সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কোনো মানুষ যেন হয়রানি বা অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির শিকার না হন, কর্মকর্তাদের তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে হবে। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সীতাকুণ্ডের উন্নয়নে সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, ক্রীড়া ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সভায় সীতাকুণ্ডের উন্নয়ন, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক সমন্বয়, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন ও এসডিজির বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জন নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় জঙ্গল সলিমপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ও গুরুত্ব পায়।

সভা শেষে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে হুইলচেয়ার, দুস্থদের সমাজকল্যাণ অনুদানের চেক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা ও ক্রীড়া উপকরণ ও স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি নিজ হাতে সুবিধাভোগীদের এসব সহায়তা তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুবিধাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গঠনে উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন