নারী মশা মারতে ৩ কোটি ২০ লাখ পুরুষ মশা ছাড়তে চায় গুগল

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

নারী মশা মারতে ৩ কোটি ২০ লাখ পুরুষ মশা ছাড়তে চায় গুগল
প্রতীকী ছবি

মশার উপদ্রব ও মশাবাহিত রোগ কমাতে ল্যাবরেটরিতে তৈরি লাখ লাখ মশা ছেড়ে দেওয়ার এক অভিনব প্রস্তাব দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে দুই বছর মেয়াদে ৩ কোটি ২০ লাখ পুরুষ মশা ছাড়ার জন্য দেশটির সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিজ্ঞাপন

মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছে গুগলের ‘ডিবাক’ উদ্যোগ। ২০১৪ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো রোগ ছড়ানো মশার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা এবং মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো।

যেভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি

এই প্রকল্পের আওতায় গুগলের বিজ্ঞান শাখা ল্যাবরেটরিতে উৎপাদিত পুরুষ মশাগুলোকে ‘ওলবাচিয়া পিপিয়েন্টিস’ নামের একটি বিশেষ ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত করবে।

ইউএস ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে গুগল এই পরীক্ষামূলক ব্যবহারের অনুমতির জন্য আবেদন করে।

এই ব্যাকটেরিয়াবাহী পুরুষ মশা যখন প্রকৃতির সাধারণ নারী মশার সঙ্গে মিলিত হবে, তখন তাদের ডিমগুলো থেকে আর নতুন মশার জন্ম হবে না। ফলে পর্যায়ক্রমে মশার সংখ্যা কমে আসবে এবং মশাবাহিত ভাইরাসের বিস্তার রোধ হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মানুষের শরীরে কেবল নারী মশারাই কামড়ায়। তাই পরিবেশে এই পুরুষ মশাগুলো ছেড়ে দেওয়ার কারণে মানুষের কামড় খাওয়ার বা মশার উপদ্রব বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

গুগলের জমা দেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটির কাজ দুই ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম বছরে ফ্লোরিডা এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় ল্যাবরেটরিতে তৈরি ১ কোটি ৬০ লাখ বন্ধ্যা পুরুষ মশা ছেড়ে দেওয়া হবে। দ্বিতীয় বছরে একইভাবে আরো ১ কোটি ৬০ লাখ মশা ছাড়া হবে। তবে এই ট্রায়াল ঠিক কোন কোন নির্দিষ্ট এলাকায় হবে এবং কবে থেকে শুরু হবে, তা আবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। বর্তমানে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) পর্যালোচনা করে দেখছে।

কীটপতঙ্গের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে তাদের বন্ধ্যা করার এই কৌশলটি অবশ্য নতুন কিছু নয়। রাসায়নিকমুক্ত বিকল্প হিসেবে এটি কয়েক দশক ধরেই আলোচিত। এর আগে গবাদি পশু ও বন্যপ্রাণীর জন্য ক্ষতিকর 'নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম' মাছি এবং 'মেডিটারেনিয়ান ফ্রুট ফ্লাই' বা ফল ধ্বংসকারী মাছি দমনেও এই পদ্ধতি সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন