বাংলাদেশি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান বিডিটাস্ক লিমিটেড Velexa OMS (ভেলেক্সা ওএমএস) নামে একটি মাল্টি-টেন্যান্ট অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর ঘোষণা দিয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউস ও পুঁজিবাজারের অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য তৈরি এই প্ল্যাটফর্মটি দেশ ও দেশের বাইরে ব্যবহারের উপযোগী বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের একটি ঘাটতি পূরণ করবে। দেশে প্রায় তিন শতাধিক ব্রোকারেজ হাউস কার্যক্রম পরিচালনা করলেও তাদের অর্ডার ম্যানেজমেন্ট, ডিপোজিট, লেনদেন, FIX ও ITCH সংযোগ এবং ম্যাচিং ইঞ্জিন সংযোগ পরিচালনা ও তদারকির জন্য কোনো কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম নেই।
অনেক ছোট ব্রোকারেজ হাউসের নিজস্ব অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার কেনা বা তৈরি করার সামর্থ্য নেই। আবার প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে FIX ও ITCH সংযোগের সনদ নিতে হয়। ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিজস্ব আইটি ও সফটওয়্যার টিম পরিচালনা করাও কঠিন। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কেউ কেউ বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে সফটওয়্যার কিনে ব্যবহার করছেন। বিডিটাস্ক জানায়, এতে প্রতিষ্ঠান ও সামগ্রিক অর্থনীতি—উভয়েরই ব্যয় বাড়ে। বিদেশ থেকে আনা OMS সফটওয়্যার দামি, এর রক্ষণাবেক্ষণ কঠিন এবং সরাসরি কারিগরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগও সীমিত। তার ওপর দেশের আর্থিক তথ্য দেশের সীমানার বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিডিটাস্ক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামস মোহাম্মদ তারেক বলেন, ‘এ সমস্যাকে মাথায় রেখেই আমরা পাঁচ বছর ধরে পুঁজিবাজারের সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করেছি। আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছি, যেখানে প্রতিটি ব্রোকারেজ হাউস নিজস্ব স্বাধীন সিস্টেম পাবে অথচ পুরো ব্যবস্থা কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনাযোগ্য হবে এবং বাংলাদেশের ডেটা সেন্টারেই থাকবে। একটি ছোট ব্রোকারকে এখন আর ডেভেলপার বা আইটি ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দিতে হবে না কিংবা কারিগরি সহায়তার জন্য বিদেশি ভেন্ডরের ওপর নির্ভর করতে হবে না।’
সামস মোহাম্মদ তারেক জানান, প্ল্যাটফর্মটি কোনো অগ্রিম অর্থ ছাড়াই সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ব্যবস্থায় দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা শুধু প্রতিটি লেনদেনের ওপর সামান্য শতাংশ হারে চার্জ নেব। অর্থাৎ, একটি ব্রোকারেজ হাউস প্রায় বিনা খরচে একটি প্রস্তুত ও সনদপ্রাপ্ত ওএমএস দিয়ে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।’
ভেলেক্সা ওএমএস একটি মাত্র ডিপ্লয়মেন্টের মাধ্যমে একসঙ্গে অনেক ব্রোকারকে সেবা দিতে পারে। এতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অর্ডার, পজিশন ও গ্রাহকের তথ্য সম্পূর্ণ আলাদা থাকে। কোনো স্টক এক্সচেঞ্জ নিজে এটি হোস্ট করে সদস্যদের শেয়ার্ড সার্ভিস হিসেবে দিতে পারে। আবার কোনো একক ব্রোকারও এটি হোস্ট করতে পারে। সিস্টেমটি অর্ডার রাউটিংয়ের জন্য FIX প্রটোকল এবং রিয়েল-টাইম মার্কেট ডেটার জন্য ITCH সমর্থন করে। বিশ্বজুড়ে এক্সচেঞ্জ ও ট্রেডিং ভেন্যুতে এই দুটি প্রোটোকল বহুল ব্যবহৃত হয়।
তিনি আরো জানান, সিস্টেমটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৩ হাজার অর্ডার সামলানোর উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। একাধিক সার্ভারে হাই-অ্যাভেইলেবিলিটি ডিপ্লয়মেন্টের ব্যবস্থাও রয়েছে। পণ্যটিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়েবভিত্তিক ট্রেডিং টার্মিনাল, ক্লায়েন্ট অনবোর্ডিং, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, ঝুঁকিসীমা ও ব্যাক-অফিস ইন্টিগ্রেশনসহ ব্রোকার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্যানেল এবং এক্সচেঞ্জ ও সিমুলেটেড মার্কেটের জন্য একটি ম্যাচিং ইঞ্জিন রয়েছে। এর মূল কাঠামো Go মাইক্রোসার্ভিস, Kafka ম্যাসেজিং ও ব্রোকারভিত্তিক পৃথক ডেটাবেসের ওপর নির্মিত।
বিডিটাস্ক লিমিটেডের পরিচালক তানজিল আহমেদ বলেন, মাল্টি-টেন্যান্ট ও প্রযুক্তিগত কাঠামোর কারণে সফটওয়্যারটি বাংলাদেশের বাইরের বাজারেও যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম একেকটি ব্রোকারের কাছে আলাদাভাবে বিক্রি হয়, যা ছোট প্রতিষ্ঠান ও উদীয়মান বাজারের নাগালের বাইরে। ভেলেক্সাকে মাল্টি-টেন্যান্ট করায় একটি এক্সচেঞ্জ বা আঞ্চলিক প্রযুক্তি অংশীদার এটি একবার চালু করেই তার সব সদস্যকে একটি আধুনিক ও নিয়মসম্মত ট্রেডিং ব্যবস্থায় নিয়ে আসতে পারবে।’
তানজিল আহমেদ আরো বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু বাংলাদেশের বাজার নয়। মধ্যপ্রাচ্যের এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এরই মধ্যে আমাদের আলোচনা চলছে। আমাদের রিয়াদ অফিস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে আমরা কাজ করছি।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


