টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে স্থিতিশীলতা ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে সিগনিফিক্যান্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি) গাইডলাইনের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘টেলিযোগাযোগ খাত: বিনিয়োগ ধীরগতি ও অসম প্রতিযোগিতা ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এই আহ্বান জানান।
গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) এমদাদ উল বারী বলেন, নিয়ন্ত্রক হিসেবে বিটিআরসি’র নিজের কোনো ক্ষমতা নেই। সরকারের কাছ থেকে পূর্ব অনুমোদন নিতে হয়, যা অসম প্রতিযোগিতার পেছনে মূল। বিভিন্ন আইনে ও নীতিমালায় আকস্মিক পরিবর্তন আরেকটি সমস্যা। তবে, এসএমপি প্লেয়ারের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টদের মাঝে সহযোগিতা বা অংশীদারিত্বের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে হবে। টেলিকম খাতের উচিত হবে গ্রাহকদের ক্ষমতায়নে আরও মনোনিবেশ করা। সেবার মান বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ব্যবসাকে সমর্থন করা হবে।
প্রতিযোগিতা কমিশনের সাবেক পরিচালক মো: খালেদ আবু নাসের বলেন, ১৫ অক্টোবর থেকে প্রতিযোগিতা কমিশন অকার্যকর। এদিকে, বিটিআরসি’র সাথে কমিশনের তেমন কোনো লিয়াজোঁ নেই। ফলে, একচেটিয়া বাজার তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় পুরো টেলিকম খাতের পরিবর্তন প্রয়োজন।
ফরেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাহী পরিচালক টিআইএম নুরুল কবির বলেন, ‘কাউকে রাজনৈতিক সুবিধা না দিয়ে বরং ভাবতে হবে আমাদের একীভূত লাইসেন্স মডেল প্রয়োজন কিনা। তবে এই খাতের উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বিটিআরসি’র রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা উচিত। পাশাপাশি, আরও বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য আইন ও নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
এমটবের সেক্রেটারি জেনারেল লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব) মো: জুলফিকার বলেন, ‘টেলিযোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। এই খাতে অনেকেই বিনিয়োগ করেছে। আরও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী বলেন, ‘অসম প্রতিযোগিতার এতোটাই খারাপ অবস্থা যে, এইটা নিয়ে বলার পরিস্থিতিই নেই। অসুস্থ প্রতিযোগিতা বিদ্যমান; এই প্রতিযোগিতার মাঝে টেলিটক কষ্ট করে টিকে আছে।’
বাংলালিংকের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স তাইমুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যে যে-সব নিয়মনীতি আছে সেগুলো বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। যেমন – অপারেটরদের মধ্যে অবকাঠামো ভাগাভাগি (ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারিং) করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বিদ্যমান বা নতুন আইনে এ সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা রাখতে হবে।’
রবির হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স সাহেদুল আলম বলেন, ন্যায্য বাজার প্রতিযোগিতা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু বাস্তবতা হলো টেলিকম খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতার কোনও পরিবেশ নেই।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
টিআরএনবি’র সভাপতি সমীর কুমার দে’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআরএনবির সাংগঠনিক সম্পাদক আল-আমিন দেওয়ান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

