শীতে সুস্থ ত্বকের সতেজতা

শীতে সুস্থ ত্বকের সতেজতা

কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল জানান দিচ্ছে শীত এসে গেছে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টি প্রকৃতির মতো আমাদের জীবনযাত্রায়ও এক ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসে। আরামদায়ক সোয়েটার, ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা কিংবা রোদ পোহানোর মিষ্টি আনন্দ—সব মিলিয়ে শীত অনেকেরই প্রিয় ঋতু। তবে এই মনোরম আবহাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আসে এক অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা—ত্বকের শুষ্কতা ও প্রাণহীন ভাব। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যাওয়ায় এবং ঠান্ডা বাতাসের দাপটে আমাদের ত্বক দ্রুত আর্দ্রতা হারায় এবং ত্বক হয়ে ওঠে খসখসে। এর ফলে খসখসে চামড়া ওঠা, ঠোঁট ফাটা এবং গোড়ালি ফেটে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে একটু সচেতনতা এবং সঠিক লাইফস্টাইল অনুসরণের মাধ্যমে এই শীতেও ত্বককে রাখা সম্ভব নরম, কোমল ও উজ্জ্বল।

বিজ্ঞাপন

* আর্দ্রতা ধরে রাখা

ত্বকের যত্নের প্রথম ও প্রধান ধাপ হলো ভেতর থেকে হাইড্রেটেড থাকা। শীতে তৃষ্ণা কম পাওয়ার কারণে আমরা অনেকেই পানি পানের পরিমাণ কমিয়ে দিই। এটি ত্বকের চরম ক্ষতি করে। প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান করা উচিত। পানির পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় রাখুন ডাবের পানি, তাজা ফলের রস, গাজর, টমেটো, পালংশাক ও বিভিন্ন ধরনের সবজির স্যুপ। এছাড়া খাদ্যতালিকায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার, যেমন বাদাম, ফ্ল্যাক্সসিড বা তিল রাখলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বজায় থাকে।

* ত্বক পরিষ্কার ও ময়েশ্চারাইজিং

শীতকালে ত্বক পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে মৃদু ও অ্যালকোহলমুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করা ভালো। ক্ষারযুক্ত বা অতিরিক্ত ফেনা হওয়া সাবান ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কেড়ে নেয়। গোসল বা মুখ ধোয়ার পরপরই, অর্থাৎ ত্বক সামান্য ভেজা থাকা অবস্থাতেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘ড্যাম্প স্কিন ময়েশ্চারাইজিং’। এটা ত্বকে দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। স্বাভাবিক বা শুষ্ক ত্বকের জন্য ভারী বা ক্রিম-বেসড ময়েশ্চারাইজার এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য লাইটওয়েট বা জেল-বেসড ময়েশ্চারাইজার নির্বাচন করা উচিত। রাতে ঘুমানোর আগে নাইট ক্রিম বা ফেস অয়েল (যেমন—জোজোবা অয়েল বা আমন্ড অয়েল) ব্যবহার করলে রাতে ত্বক পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ পায়।

* গরম পানির ব্যবহার

কনকনে ঠান্ডায় গরম পানিতে দীর্ঘক্ষণ গোসল করতে অনেকেরই ভালো লাগে। কিন্তু অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেলের আস্তরণ নষ্ট করে ফেলে। তাই খুব গরম পানির বদলে ঈষদুষ্ণ (হালকা গরম) পানি ব্যবহার করুন এবং গোসলের সময় ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে সীমিত রাখুন। গোসল শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো শরীরে অলিভ অয়েল, নারকেল তেল বা ভালো বডি লোশন মেখে নিন।

* সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষা

অনেকের ধারণা, শীতে রোদের তীব্রতা কম থাকে বলে সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। শীতের রোদ মিষ্টি লাগলেও এর ক্ষতিকারক ইউভি রশ্মি ত্বকের গভীর ক্ষতি করে, যা কালচে দাগ ও অকাল বার্ধক্যের কারণ হতে পারে। তাই দিনের বেলা বাড়ির বাইরে বের হওয়ার অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে ন্যূনতম ‘এসপিএফ ৩০’-যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার নিশ্চিত করুন।

* ঠোঁট ও পায়ের যত্ন

শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ হলো ঠোঁট। ঠোঁট কখনো জিব দিয়ে ভেজানো উচিত নয়, এতে ঠোঁট আরো বেশি ফেটে যায়। সঙ্গে সবসময় পেট্রোলিয়াম জেলি, শিয়া বাটার বা ভালো মানের লিপবাম রাখুন। পায়ের গোড়ালি ফাটার সমস্যায় রাতে পা ভালো করে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার বা ভ্যাসলিন লাগিয়ে সুতির মোজা পরে ঘুমালে গোড়ালি নরম থাকে। শীত মানেই শুধু শুষ্কতা নয়, শীত মানে একটু বাড়তি যত্ন আর নিজেকে ভালো রাখা। এই শীতল মৌসুমে সঠিক আহার, আর্দ্রতা বজায় রাখা আর প্রতিদিনের সামান্য পরিচর্যাই আপনার ত্বককে রাখতে পারে প্রাণবন্ত, সতেজ ও দাগহীন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন