দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষাকাল। বই পড়া নিঃসন্দেহে একটি ভালো অভ্যাস। ভালো বই পড়ার অভ্যাস মানুষকে মহান করে তোলেএ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তারপরও ছাত্রজীবনের পর আর নিয়মিত বই পড়া হয়ে ওঠে না। কেন যেন সময়ই আর হয়ে ওঠে না। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে—‘ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়।’ শত ব্যস্ততার মধ্যেও কিছুটা সময় বের করে আমাদের ভালো বই পড়ার অভ্যাসটা ধরে রাখতে হবে। বই না পড়তে পড়তে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যেতে থাকে। মনে হয় যেন আর আগের মতো সবকিছু মনে থাকে না, মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে গেছে। তখন আমরা দোষ দিই বয়সকে। কিন্তু খেয়াল করে দেখুন, এই সমস্যাগুলো যে বয়সে গিয়ে আপনি লক্ষ করেন, সেই বয়সটা কিন্তু মোটেই ভুলে যাওয়ার বয়স নয়। এটা চর্চার অভাব মাত্র। তাই নিয়মিত বই পড়তে হবে। শত কাজের মাঝেও আমাদের বই পড়ার অভ্যাসটা ধরে রাখা উচিত।
ছাত্রজীবনে আপনি প্রচুর পড়াশোনা করেছেন। নিয়ম করে আপনি নতুন জিনিস শিখেছেন। কিন্তু এরপর আপনি যখন আর কিছুই পড়েন না, তখন মস্তিষ্কের কাজ কমে আসে। আপনি হয়ত ভাবছেন, আপনি তো অফিসে প্রচুর কাজ করেন। অফিসে আপনি আপনার শিক্ষার প্রতিফলন ঘটান নানা কাজে। নতুন কিছু তুলনামূলকভাবে অনেক কম শেখা হয়। আবার পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। মোটেই কঠিন কিছু নয় এটি। বেছে নিন এ কৌশলগুলোÑ
প্রতি মাসে অন্তত একটি বই পড়ুন
প্রতি মাসে কমপক্ষে একটি বই পড়ুন। একটি তালিকা তৈরি করুন কোন বইগুলো পড়তে চান। নিজের কাছেই নিজে প্রতিজ্ঞা করুন—এই মাসেই একটি বই শেষ করবেন। তবে বই নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনার পড়ার গতি ও পছন্দের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। যদি আপনার পড়ার গতি ধীর হয়, কিংবা বইটি অনেক বড় হওয়ার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে না পারেন, তবে হতাশ হবেন না। নিজের সামর্থ্য বুঝে লক্ষ্য স্থির করাই আসল বিষয়। নিয়মিত মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন, না হয় সময় একটু বেশিই লাগল।
বৈচিত্র্য আনুন
একই ধরনের বই পড়তে ভালো নাও লাগতে পারে। তাই বই পড়ার তালিকায় বৈচিত্র্য নিয়ে আসুন। আপনি সাহিত্য পড়তে ভালোবাসেন? বিখ্যাত সাহিত্যিকদের ভালো ভালো বই পড়ুন। বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী পড়ুন। আর যদি দর্শন পড়তে ভালোবাসেন, তাহলে দার্শনিকদের জীবনী, তাদের সময়ের ইতিহাসও পড়ুন। সভ্যতার বিকাশ সম্পর্কে জানুন। একই বিষয়ে বেশিক্ষণ পড়া কঠিন। একঘেয়ে লাগলে আর হয়তো পড়তেই ভালো লাগবে না আপনার। তাই বিষয় বদলে বিভিন্ন ধরনের বই পড়ুন।
আনন্দ পেতে পড়ুন
শুধু পড়ার জন্য না পড়ে পড়ার মাঝেই খুঁজে নিন আনন্দ। ভালো লাগার জন্য পড়ুন। বই শুধু জ্ঞান দিয়ে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় না, আনন্দ দিয়েও বাড়ায়। আপনি যদি কোনো আনন্দই না পান, তাহলে এ বই পড়াই আবার আপনার জন্য মানসিক চাপ হয়ে যাবে।
ভালো না লাগলে পড়বেন না
যে বইটি পড়তে শুরু করেছেন, সেটি যদি পড়ার পর আপনার ভালো না লাগে, তবে জোর করে শেষ করার প্রয়োজন নেই। একটি মানসম্মত বই আপনার জীবন বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাই যে বিষয় আপনার আগ্রহ বা কৌতূহলের সঙ্গে মেলে না, সেখানে অযথা সময় নষ্ট করবেন না। বরং এমন বই বেছে নিন যা আপনাকে সমৃদ্ধ করবে, আপনার ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলবে এবং আপনাকে একজন বড় মানুষ হিসেবে তৈরি হতে সাহায্য করবে। অন্তত আপনার ভালো লাগার চর্চা হয় এমন কিছু পড়ুন; এতে আপনার মন সবসময় প্রফুল্ল থাকবে।
সময় বের করে নিন
আপনি হয়তো ভাবছেন, সময়ই তো নেই, কখন বই পড়ব? বিছানায় বালিশের পাশে রাখতে পারেন বইটা। প্রতিদিন ঘুমানোর আগে অন্তত ৩০ মিনিট পড়লেন, অথবা বইটি একটি ব্যাগে রাখুন। অফিসে কাজের ফাঁকে একঘেয়েমি কাটাতে বা পথে গাড়িতে বসে বসে পড়লেন। আর বই যখন আপনার ভালো লেগে যাবে, আপনি হয়তো টেরও পাবেন না, কীভাবে নিজেই সময় বের করে নিচ্ছেন পড়ার জন্য।
বন্ধুদের সঙ্গে মিলে পড়ুন
বন্ধুরা মিলে একসঙ্গে পড়ুন। কোনো বই টার্গেট নিয়ে একসঙ্গে পড়া শুরু করুন। কিছুদিন এভাবে পড়তে পড়তে আপনার পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়ে যাবে। আর বন্ধুরা একসঙ্গে পড়ার কারণে আপনি গল্পটি নিয়ে আপনার অনুভূতি শেয়ার করার জায়গাও পাবেন। তাতে আনন্দ বেড়ে যাবে বহুগুণে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

