ঈদ মানেই উৎসব। ঈদ মানেই খুশি। আর উৎসবের প্রধান বিষয় হচ্ছে খাবার। ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয় নানারকম মজাদার খাবার। আর দিনটি শুরু হয় সকালে মিষ্টিমুখ করেই। অতিথি আপ্যায়নে ও নিজেদের খাওয়ার জন্য মিষ্টি খাবার চাই-ই চাই।
শাহি ফিরনি
উপকরণ : পোলাওয়ের চাল ১০০ গ্রাম, দুধ ২ লিটার, কিশমিশ ২ টেবিল চামচ, পেস্তা বাদামের কুচি ২ টেবিল চামচ, কনডেন্সড মিল্ক ১ কৌটা, মাওয়াগুঁড়া ৪ টেবিল চামচ, দারুচিনি ৪ টুকরা, চিনি ১০০ গ্রাম, এলাচ ২টি, জাফরান আধা চা চামচ ও কেওড়া ২ চা চামচ।
প্রস্তুত প্রণালি : পোলাওয়ের চাল আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে অর্ধেক ভাঙা করে বা আধা বাটা করে দুধ দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। চাল সেদ্ধ হলে চিনি, কনডেন্সড মিল্ক, দারুচিনি ও এলাচ দিতে হবে। কিছুক্ষণ পর কিশমিশ ও পেস্তা বাদামের কুচি দিতে হবে। ঘন হয়ে গেলে কেওড়া জাফরানের সঙ্গে মিশিয়ে ফিরনিতে দিয়ে নামাতে হবে। পরিবেশনের জন্য বাটিতে ঢেলে মাওয়া, কিশমিশ ও পেস্তা বাদামের কুচি দিয়ে পছন্দমতো সাজিয়ে নিতে হবে। এরপর ঠান্ডা করে শাহি ফিরনি পরিবেশন করতে হবে।
নবাবি সেমাই
উপকরণ : লাচ্ছা সেমাই ২০০ গ্রাম, ঘি ২-৩ টেবিল চামচ, চিনি বা কনডেন্সড মিল্ক আধা কাপ, গুঁড়া দুধ আধা কাপ, জর্দার রঙ সামান্য, কেওড়া জল দু-এক ফোঁটা, কাজুবাদাম ও পেস্তা বাদাম ১ টেবিল চামচ, চেরি ফল ৭-৮টি, গরুর তরল দুধ ১ কেজি, কাস্টার্ড পাউডার ৪ টেবিল চামচ, কর্নফ্লাওয়ার ২ টেবিল চামচ ও ড্যানো ক্রিম আধা কাপ।
প্রস্তুত প্রণালি : প্রথমে চুলায় একটি হাঁড়িতে ঘি দিয়ে দিন। ঘি গলে গেলে তাতে লাচ্ছা সেমাই দিন। চিনি ও গুঁড়া দুধ দিয়ে অনবরত নেড়ে ভাজতে হবে। এবার একটু লালচে রঙ করে ভেজে নিন। এখান থেকে দুই ভাগ করে এক ভাগের একটু বেশি সেমাই বড় কাচের বাটিতে সমান করে ছড়িয়ে দিন। বাকি এক ভাগ সেমাই হাঁড়িতে রেখে এর সঙ্গে সামান্য জর্দার রঙ মিশিয়ে আলাদা একটি বাটিতে তুলে রাখুন। এবার আগে থেকে ঘন করে জ্বাল করা ঠান্ডা দুধ নিয়ে এর সঙ্গে গুঁড়া দুধ, কাস্টার্ড পাউডার, কর্নফ্লাওয়ার, ড্যানো ক্রিম, চিনি বা কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে দিন। এবার কেওড়া জল দিয়ে চুলা অন করে দিন। দুধের উপকরণটা বেশ ঘন হয়ে উঠলে চুলা বন্ধ করে দিন। গরম অবস্থায় কাচের বাটিতে ছড়িয়ে রাখা সেমাইয়ের ওপর ঢেলে দিন। আর বাকি যে ফুড কালার দেওয়া অর্ধেক সেমাই আছে, সেটুকু একটু একটু করে এর ওপর সমানভাবে ছড়িয়ে দিন। তৈরি হয়ে গেল মজাদার নবাবি সেমাই।
দেশি তিরামিসু
উপকরণ : মিল্ক মেরি বিস্কুট ১ প্যাকেট, কনডেন্সড মিল্ক ১ কৌটা, ডানো ক্রিম ১ কৌটা ও টকদই ৫০০ গ্রাম।
প্রস্তুত প্রণালি : প্রথমে শরবতের জারে দই, কনডেন্সড মিল্ক ও ডানো ক্রিম এক মিনিট ব্লেন্ড করে নিন। তারপর একটি বাটিতে এক লেয়ার বিস্কুট দিন। তার ওপর মিশ্রণটি অল্প অল্প করে দেবেন। তারপর আরেক লেয়ার বিস্কুট দিয়ে তার ওপর দইয়ের মিশ্রণটি দিন। এভাবে তিন-চার লেয়ার দেবেন (যতক্ষণ দইয়ের মিশ্রণ থাকে ও জায়গা থাকে)। খেয়াল রাখতে হবে, যেন বিস্কুট সম্পূর্ণ ডুবে থাকে। তারপর এটিকে ফ্রিজে নরমাল চার-পাঁচ ঘণ্টা রেখে ঠান্ডা করে নেব। পছন্দমতো ডেকোরেশন করে নেব। পরিবেশনের জন্য রেডি দেশি তিরামিসু।
মালাই জর্দা
উপকরণ : বাসমতী বা কালিজিরা চাল ১ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, চিনি ১ কাপ, কমলার রস ১ কাপ, তেজপাতা ২টি, এলাচ ৪টি, দারুচিনি ৩ টুকরা, লবঙ্গ ১০-১২টি, জর্দার রঙ আধা চা চামচ, লবণ সিকি চা চামচ, পেস্তা ও কাঠবাদাম ১০টি করে, কিশমিশ ২ টেবিল চামচ ও মোরব্বা টুকরা ২ টেবিল চামচ।
প্রস্তুত প্রণালি : চাল ধুয়ে পানি দিয়ে এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর চাল থেকে একদম পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এবার একটি হাঁড়িতে পানি ফুটিয়ে নিতে হবে। পানিতে জর্দার রঙ আর সয়াবিন তেল দিতে হবে। তারপর ফুটন্ত পানিতে চাল দিয়ে একটু নেড়ে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে চালগুলো যেন কোনোভাবেই বেশি নরম না হয়ে যায়। চালের মাঝখানের অংশটা শক্ত থাকা অবস্থায় একটা চালনিতে ঢেলে পানি ঝরিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে।
এবার একটা হাঁড়িতে ঘি, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, তেজপাতা ও চিনি দিয়ে দিতে হবে। এবার পানি ও কমলার রস দিয়ে দিতে হবে। চিনি গলে গেলে তার ওপর রান্না করে রাখা জর্দা ভাত দিয়ে দিতে হবে। এক চিমটি লবণ, কিশমিশ ও মোরব্বা দিয়ে দিতে হবে। এবার একটু হালকা করে নেড়ে মিশিয়ে নিতে হবে। বেশি নাড়লে চাল ভেঙে আঠালো হয়ে যাবে।
এবার বাদাম ও কিশমিশ দিয়ে আঁচ কমিয়ে রান্না করুন। এতে ঝরঝরে হয়ে যাবে।
মালাই তৈরি : এবার আরেকটা পাত্রে আগে থেকে জ্বাল করে নেওয়া এক কেজি গরুর ঘন দুধ ও এক কাপ পাউডার দুধ, এক টেবিল চামচ কর্নফ্লাওয়ার, সামান্য এলাচগুঁড়া ও দুই টেবিল চামচ ঘি দিয়ে অনবরত নাড়তে হবে। এরপর আধা কাপ কনডেন্সড মিল্ক দিতে হবে। কনডেন্সড মিল্কের পরিবর্তে হাফ কাপ চিনিও দিতে পারবেন। সবকিছু একসঙ্গে মিশিয়ে একটা ঘন মালাই তৈরি করে নিতে হবে। মালাই তৈরি হয়ে গেলে রান্না করা জর্দার ওপর ঢেলে দিতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

