পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও সংবেদনশীল, নিরাপদ আশ্রয়স্থল হলো ‘মা’। মায়া, দয়া, ভালোবাসা, রক্ষণশীলতা, স্নেহ, শাসনসহ সন্তানের জন্য কল্যাণকর সবকিছুর সংমিশ্রণেই যে মানুষটি আমাদের সামনে উপস্থিত হন, তিনি হলেন মা। ‘মা’ নামক মানুষটি সন্তানের কাছে এক সৌভাগ্যের নাম। তবে জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে মাকে পাওয়ার সৌভাগ্য সবার হয় না; আবার কারো কারো কাছে মাকে হারানোর তীব্র যন্ত্রণারও শেষ নেই।
নিঃস্বার্থ ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ নাম ‘মা’
‘মা’ শুধু একটি শব্দ নয়, এর মধ্যে লুকিয়ে আছে আমাদের আত্মার প্রশান্তি, আমাদের ভালোবাসা। পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল, নিঃস্বার্থ আর অটুট ভালোবাসার নাম ‘মা’। সন্তানের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম নিরাপত্তা—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু মা। তার কোলেই শিশুর পৃথিবী গড়ে ওঠে, তার কণ্ঠে শেখে প্রথম শব্দ, তার স্পর্শে পায় জীবনে চলার সাহস। মায়ের ভালোবাসা শুধু আবেগে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে গভীর দায়বদ্ধতা।
দিন-রাতের ক্লান্তি, নিজের স্বপ্ন, চাওয়া—সবকিছু ত্যাগ করে তিনি সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন। সন্তানের হাসি তার আনন্দ, সন্তানের কষ্ট তার বেদনা। নিজের কথা ভুলে সন্তানকে সফলতার সর্বোচ্চ চূড়ায় দেখার জন্য তিনি নিজের সবটুকু উজাড় করে দেন।
সমাজের প্রতিটি সফল মানুষের পেছনে মায়ের অবদান নিঃশব্দ অথচ গভীর। তাই মা ভালোবাসা, দায়িত্ব আর ত্যাগের এক অনন্য প্রতীক। আমরা অনেক সময় মায়ের এই অবদান ভুলে যাই। অথচ একটি ‘ধন্যবাদ’ বা একটু সময়ও তার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। কারণ মা কোনো প্রতিদান চান না—তিনি শুধু চান সন্তানের ভালো থাকা। ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার শ্রেষ্ঠ নাম ‘মা’।
জুহা
সমাজকর্ম বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ
‘মায়ের মতো আপন কেউ নেই’
মা শব্দটি ছোট হলেও এর অবদান বিশাল। এই ‘মা’ শব্দের পেছনে লুকিয়ে আছে হাজারো ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং নিজ সন্তানের কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার ইতিহাস। মা মানেই স্নেহ, মায়া-মমতায় ঘেরা একটি নাম; মা মানেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক অনন্য পরিচয়। মা নিজের জীবনের কথা চিন্তা করার আগে সন্তানের জীবন নিয়ে ভাবেন। মা যেমন আমাদের জন্ম দিয়ে এই পৃথিবীর মুখ দেখান, তেমনি আমাদের জীবনের ভালো-মন্দ, কল্যাণ-অকল্যাণ সবকিছুই আগে অনুভব করেন ও চিন্তা করেন। মায়ের মতো নিঃস্বার্থ ও ত্যাগী আপনজন এই পৃথিবীতে দ্বিতীয় কেউ নেই। মা নিজের কষ্ট আড়াল করে সন্তানের মুখে হাসি ফোটান। মায়ের মতো করে কেউ বোঝে না, অনুভব করে না।আমরা আমাদের রাগ, জেদ, মন খারাপ—সবকিছুই মা সহ্য করে, আমাদের রাগ-অভিমান ভেঙে বুকে টেনে নেন। মা আমাদের মাথার ওপর বটগাছের মতো ছায়া দিয়ে রাখেন; আমরা সেই ছায়ায় স্নেহ-ভালোবাসায় বড় হয়ে উঠি। এই দুনিয়ায় মায়ের মতো আপন দ্বিতীয় কেউ নেই। দুনিয়ার কোনো কিছু দিয়েই মায়ের শূন্যতা পূরণ করা যায় না। দুনিয়ার সব মা ভালো থাকুক এবং নিজেদের সন্তানকে এভাবেই ভালো রাখুক—এই কামনাই করি।
সামিয়া রহমান
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ
‘সন্তানের সাফল্যে মায়ের অবদান’
মা হলো পৃথিবীর অদৃশ্য সুগন্ধি। জন্মের পর প্রথম স্পর্শ, প্রথম দেখা, প্রথম আশ্রয়—সবকিছুর শুরুই মাকে ঘিরে। মায়ের ভালোবাসা, ত্যাগ, স্নেহ ও দিকনির্দেশনা সন্তানের জীবনকে এমনভাবে গড়ে তোলে, যা ভাষায় ব্যাখ্যা করা কঠিন। একজন সন্তানের জীবনের প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং প্রথম আশ্রয়স্থল মা। জীবনের প্রথম বর্ণমালার সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেন মা। তার হাত ধরেই আমাদের শিক্ষাজীবনের যাত্রা শুরু হয়। রাতের অন্ধকারে সন্তানের জ্বর মাপা, সকালে টিফিন গুছিয়ে দেওয়া কিংবা পরীক্ষার আগের রাতে জেগে পাশে থাকা—মায়ের এই যত্নই ধীরে ধীরে গড়ে তোলে সন্তানের ভবিষ্যৎ। প্রতিটি সফল মানুষের পেছনে থাকে একজন মায়ের নীরব ত্যাগ, অদৃশ্য সংগ্রাম এবং অক্লান্ত পরিশ্রম। সমাজ যখন সাফল্যের মুকুট পরিয়ে দেয়, পুরস্কারের মঞ্চে সন্তান কথা বলে, মা তখন দর্শকসারিতে বসে নীরবে চোখ মুছতে থাকেন।মায়ের ভালোবাসা পরিমাপের কোনো একক নেই, তার অবদানের কোনো মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। তা শুধু অনুভব করা যায় হৃদয়ের গভীরে, জীবনের প্রতিটি অর্জনের মুহূর্তে। মায়ের এই অপরিসীম ঋণ আমরা কখনোই শোধ করতে পারব না। তিনি এমন এক প্রদীপের আলো, যার উজ্জ্বলতায় সন্তানের জীবন আলোকিত হয়।
রুমিয়া হক শর্মী
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ
‘মা হারানোর শূন্যতা পূরণ হয় না’
পৃথিবীতে ‘মা’ শব্দটি সবচেয়ে মূল্যবান, যার শূন্যতা কোনো কিছুর বিনিময়েই পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। একজন সন্তানের কাছে মাতৃস্নেহের চেয়ে বেশি আপন আর কিছুই নেই। সারা দিনের ক্লান্তি, হতাশা, রাগ, দুঃখ, অভিমান—সবকিছুই একমাত্র মায়ের কোমল স্পর্শে মুছে যায়। হাজার চেষ্টাতেও আমরা মায়ের কাছ থেকে কিছুই লুকাতে পারি না। সন্তানের করুণ চোখের চাহনির মাধ্যমেই মা তার মনের সব জমানো ব্যথা উপলব্ধি করতে পারেন। আকাশে মেঘ দেখলে যেমন আমরা বৃষ্টির সম্ভাবনা টের পাই, তেমনি মায়ের পরম মমতা সন্তানের সম্ভাব্য বিপদের কথাও অনুভব করতে পারে। সন্তানের একমাত্র ভরসার আশ্রয়স্থল মা।
মায়ের হাত ধরেই আমাদের হাঁটতে শেখা, কথা বলতে শেখা।
তাই মায়ের প্রস্থানে আমাদের পৃথিবী হয়ে যায় রঙহীন। এই গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি আমাদের জীবন থেকে চলে গেলে আমরা অসহায় হয়ে পড়ি। বলা হয়ে থাকে, সবকিছুর অভাব পূরণ করা সম্ভব, কিন্তু মায়ের অভাব কোনো দিন পূরণ হয় না। মায়ের মমতা ও ভালোবাসায় আবিষ্ট হয়ে আমরা যেমন নিরাপদ বোধ করি, ঠিক তেমনি তিনি আমৃত্যু আমাদের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ হয়ে ওঠেন—মা।
জান্নাতুল মুশরাত জেবিন
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

