জীবনের লক্ষ্য ও বাস্তবতা নিয়ে তরুণীদের ভাবনা

জীবনের লক্ষ্য ও বাস্তবতা নিয়ে তরুণীদের ভাবনা

সবার জীবনেরই একটি লক্ষ্য থাকে। তবে কজনই বা পারেন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে জীবনযুদ্ধে টিকে থেকে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে? বেশির ভাগই আর্থিক সমস্যা, নিরাপত্তাহীনতা, মানসিক চাপ ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কাছে হেরে যান। তরুণীরা তাদের জীবনের লক্ষ্য পূরণ এবং বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত ব্যক্ত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্যপূরণে প্রথম বাধা নারীর নিরাপত্তা

আফিয়া আলম

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

নারী মানবসমাজের প্রাণশক্তি। একটি ভয়হীন ও সুরক্ষিত পরিবেশেই নারী তার মেধা, মনন ও প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারেন। নিরাপদ সমাজ পেলে নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতে পারেন, যা একটি শক্তিশালী পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।

নিরাপত্তাহীনতার কারণে অধিকাংশ নারী নানা সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু বাস্তবতা এর চেয়েও কঠিন ও জটিল। নিরাপত্তাহীনতার কারণে ক্যারিয়ারে উচ্চপর্যায়ে যাওয়ার পরও নারীরা তা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। আমাদের সমাজে নারীর নিরাপত্তাজনিত নীতি ও আইন প্রণয়ন করা হলেও বাস্তবে নারীরা যখন কর্মে নিয়োজিত হন, সে সময় সেগুলোর প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই না। এ কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নারীরা শিক্ষিত হলেও কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত হচ্ছেন না। যার ফলে নারীরা সমাজের মূল উন্নয়ন কাঠামো থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছেন। তারা শিক্ষিত হচ্ছেন, কিন্তু সমাজের উন্নয়নের কোনো ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারছেন না।

আবার অনেক মেয়ে নিরাপত্তাহীনতার কারণে পড়াশোনা সম্পন্ন করতে পারে না। ফলে তারা সমাজে অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত হয়ে রয়ে যায়। সুতরাং, নারীকে সমাজের মূল স্রোতে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নারীদের নিরাপত্তা প্রদান করা অত্যাবশ্যক।

লক্ষ্যপূরণে প্রয়োজন দক্ষতা

অংকিতা চক্রবর্তী

পরিসংখ্যান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

পড়াশোনার আনুষ্ঠানিকতার হাতেখড়ি থেকেই মেধার স্বাক্ষর রাখার চেষ্টা প্রতিনিয়ত চলমান। একাডেমিক সার্টিফিকেটগুলো তার প্রমাণ। পরিবারের ভরসা ও স্বপ্নের দায়িত্ব প্রতিবার নতুন মাত্রার যে অদম্য শক্তি ও ইচ্ছা—তা নিয়ে উচ্চশিক্ষার পথচলা। এই ধাপেও নিজের গোড়ালি দৃঢ় করা ও কাঠামোয় আবদ্ধ করার প্রয়াসে ছুটে চলতে হয় অবিরাম। পাশাপাশি তো আছেই সহশিক্ষা কার্যক্রম, ভলান্টিয়ারিং ও নিজের অন্যান্য দক্ষতা উন্নয়নের কাজ।

কিন্তু হঠাৎ থমকে দাঁড়াতে হয় কিছু প্রশ্নের কাছে। চাকরি হবে তো? সম্মান ও অর্থ—দুইয়ের ভারসাম্য থাকবে তো? নারী হওয়ায় প্রতিনিয়ত আমাকে এ প্রশ্ন চোখ রাঙায়। চাকরির মন্দা কারো অজানা নয়। ফলে বাস্তবতার পরিমাপ কখনোই সমান হওয়ার নয়। অবস্থান অনুযায়ী চাকরি না হওয়ায় মেধাপাচার সমানুপাতিক হারে বেড়েই চলছে। ব্যয়ভার বহুল হওয়ার কারণে তারা পড়ে যায় গৎবাঁধা সেই সরকারি চাকরির নিয়মের জাঁতাকলে।

কিন্তু যেখানে সবটাই অনিশ্চয়তার কুয়াশা, সেখানেও রয়েছে আশার রোদ। দক্ষতা থাকলে চাকরির অভাব হবে না—তেমনি প্রয়োজন মেধা, সাহস, পরিশ্রম ও বুদ্ধির প্রয়োগ।

লক্ষ্যপূরণে প্রয়োজন স্থির মনোভাব

মারিয়া আক্তার

গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স, আজিমপুর, ঢাকা

প্রত্যেক মানুষের জীবনে একটি স্বপ্ন থাকে, যা তাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। আমার স্বপ্ন একজন দক্ষ পুষ্টিবিদ হিসেবে মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কাজ করা। ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগে পড়াশোনা শুরু করার পর থেকেই আমি উপলব্ধি করেছি, সঠিক খাদ্যাভ্যাস শুধু সুস্থ থাকার জন্য নয়, বরং অনেক রোগপ্রতিরোধ এবং সুস্থ জীবন গঠনের অন্যতম ভিত্তি। তাই মানুষের মধ্যে পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করাই আমার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য।

তবে স্বপ্ন দেখা যতটা সহজ, সে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথ ততটা সহজ নয়। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে প্রতিনিয়ত নানা বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছি। পড়াশোনার চাপ, ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিযোগিতামূলক কর্মক্ষেত্রে নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে পথচলাটা মোটেও সহজ নয়।

এর পাশাপাশি আমাদের দেশে পুষ্টিবিদ পেশাটি এখনো তেমনভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এই পেশায় সফল হতে হলে শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করলেই হয় না, মানুষের আস্থা অর্জন এবং পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ধৈর্য, আন্তরিকতা, নিরলস পরিশ্রম এবং সঠিক জ্ঞানের মাধ্যমে লক্ষ্যপূরণ সম্ভব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...