হাওরাঞ্চলে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত ডায়াবেটিক হাসপাতাল ভবন নির্মাণের এক বছর পার হলেও চালু হয়নি কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবনটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের অভাবে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে একদিকে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো ডায়াবেটিস রোগী, অন্যদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় পড়েছে কোটি টাকা খরচে নির্মিত নতুন ভবনটি।
পৌর শহরের আলীপাড়ায় নির্মিত এই হাসপাতালকে হাওরাঞ্চলের রোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৫০ শয্যার এই হাসপাতাল প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে হাসপাতাল ভবন নির্মাণের জন্য ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার চুক্তিতে দায়িত্ব পায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চে শুরু হওয়া নির্মাণকাজ ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা দফায় দফায় পেছায়। অবশেষে নানা জটিলতা পেরিয়ে ২০২৫ সালে ভবনটির কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু কাজ শেষ হলেও সরঞ্জাম হস্তান্তরিত না হওয়ায় কার্যক্রম চালু করা যায়নি।
এমনকি ভবন হস্তান্তরের সময়েই দেখা দিয়েছে নানা ত্রুটি। হাসপাতালের বেশ কয়েকটি স্থানে সীমানাপ্রাচীর ও মেঝেতে ফাটলসহ নানা সমস্যা ধরা পড়ে। পরবর্তীতে এসব ত্রুটি সংশোধনের শর্তেই ভবনটি গ্রহণ করে ‘সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি’।
চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীরা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, জেলায় দিনে দিনে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়লেও ভালো চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ নেই। বাধ্যতামূলকভাবেই বাড়তি টাকা খরচ করে সিলেট কিংবা ঢাকায় গিয়ে সেবা নিতে হয়। উপহার হিসেবে পাওয়া এই বিশেষায়িত হাসপাতাল দ্রুত চালু করতে সরকারের প্রতি আকুল আহ্বান জানান তারা।
হাসপাতালের জমিদাতার সন্তান মো. সাদেক খন্দকার বলেন, দরিদ্র মানুষের কষ্টের কথা ভেবে আমার বাবা হাসপাতালের জায়গা দান করেছিলেন। কিন্তু বছর পেরিয়ে গেলেও এটি চালু না হওয়ায় নিদারুণ ভোগান্তিতে পড়েছেন দরিদ্র রোগীরা।
দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস রোগী রওনক বখত এবং স্থানীয় বাসিন্দা ফাত্তাহ কাওসার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি ভবন এভাবে ফেলে রাখা চরম দুঃখজনক।
সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনোওয়ার আলী জানান, চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও ফার্নিচার এখনো আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। জানা গেছে কিছু সরঞ্জাম কেনা হয়েছে, কিন্তু বুঝে পাইনি। প্রয়োজনীয় এসব সরঞ্জাম ও ফার্নিচার পেলেই আমরা দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালু করতে পারব।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

