দক্ষ নার্সের চাহিদা রয়েছে দেশের বাইরেও

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

দক্ষ নার্সের চাহিদা রয়েছে দেশের বাইরেও

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ নার্স রয়েছে। তার পরও ২০৩০ সাল নাগাদ নার্সের ঘাটতি গড়াতে পারে ৪৫ লাখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে এ তথ্য।

দক্ষভাবে গড়ে তুলতে পারলে একদিকে তারা যেমন দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারবে, অন্যদিকে বিদেশেও তৈরি হবে কর্মসংস্থানের সুযোগ।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, প্রতি একজন চিকিৎসকের বিপরীতে তিনজন নার্স থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে এই অনুপাত একেবারেই উল্টো।

দেশে বর্তমানে চিকিৎসকের সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৫৩, দন্তচিকিৎসক ১২ হাজার ৯৪০ জন আর মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ৩০ হাজার ৭৯৫ জন।

অন্যদিকে ধাত্রীসহ নিবন্ধিত নার্সের সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬১৩ জন।

ফলে চিকিৎসক বনাম নার্সের অনুপাত যেখানে থাকার কথা ১:৩, সেখানে বাংলাদেশে আছে ১.১:১।

এছাড়া প্রতি ১০ হাজার রোগীর জন্য বাংলাদেশে নার্স আছেন ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে একই জনসংখ্যার জন্য নেপালে আছেন ৪০ দশমিক ৯ জন আর মালদ্বীপে ৫০ দশমিক ২ শতাংশ।

দক্ষিণ এশিয়ার হিসাবে পাকিস্তান আর আফগানিস্তানের পরই সবচেয়ে কমসংখ্যক নার্স আছে বাংলাদেশে।

আগের তুলনায় বাংলাদেশেও এখন অনেক বেশি মানুষ নার্সিং পেশায় আগ্রহী হয়ে উঠছে। ফলে এই জনবলকে বিশ্ববাজারের জন্য দক্ষভাবে গড়তে পারলে একদিকে তা যেমন মানবসম্পদ হয়ে উঠবে, তেমনি দেশের উন্নতিতেও ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন অনেকে।

আবার দেশের বাইরে যেমন বিশেষায়িত নার্সের চাহিদা রয়েছে, সেই দিকটিতেও যথেষ্ট নজর দেওয়া হচ্ছে না।

বাংলাদেশে সবাই জেনারেল নার্স। কিন্তু সারা বিশ্বে কিন্তু স্পেশালাইজড নার্স খোঁজে। অর্থাৎ, তাদের চাহিদা অনুযায়ী আইসিইউ নার্স, ওটি নার্স, এই জায়গাগুলোতে আমরা যদি ফোকাস করতে পারি বা ক্লিনিক্যাল সাইডে স্পেশালাইজড নার্স তৈরি করতে পারি, তাহলে সারা বিশ্বে বড় একটা মুক্তবাজার তৈরি হবে।

এদিকে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৬৪টি নার্সিং ইনস্টিটিউট ও কলেজ আছে। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৭।

তার পরও বাংলাদেশে প্রতিটি ক্ষেত্রেই চাহিদার তুলনায় নার্সের সংখ্যা এখনো অপ্রতুল।

বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের তথ্যমতে, বাংলাদেশের নিবন্ধনকৃত দেড় লাখের কিছু বেশি নার্সের মধ্যে ৪৪ হাজার ৮৫৮ জন সরকারি চাকরি করেন। আর বাকিদের একটি অংশ যুক্ত আছে বেসরকারি খাতে, আরেকটি অংশ বেকার।

এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগ আর পরিকল্পনার দিকে জোর দিতে হবে সংশ্লিষ্টদের।

এলআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন