জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্সে ৪-এর মধ্যে ৪ সিজিপিএ অর্জন করেছেন সৈয়দ ফাতেহ উদ্দিন আহম্মেদ (অনিক)। শিক্ষাজীবনে ধারাবাহিক সাফল্যের পাশাপাশি তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে নিউক্লিয়ার রেডিয়েশনবিষয়ক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চাকরি, গবেষণা এবং উচ্চশিক্ষা—তিনটি ক্ষেত্রই সমানতালে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এই অভিজ্ঞতাগুলোর কথা শুনেছেন আক্তারুজ্জামান
প্রশ্ন : এই সাফল্যের নেপথ্যে কী?
উত্তর : আমার মতো একজন ক্ষুদ্র মানুষের পক্ষে এত বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে একমাত্র মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও সাহায্যের কারণে। এর পাশাপাশি আমার বাবা-মায়ের দোয়া, স্ত্রীর অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা, শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং নিজের নিয়মিত অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম এই সাফল্যের নেপথ্যের মূল শক্তি। আমি বিশ্বাস করি, আন্তরিক প্রচেষ্টা, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং লক্ষ্য অর্জনের দৃঢ় সংকল্প থাকলে সাফল্য অর্জন সম্ভব। এই অর্জনের জন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি এবং যারা আমার এই পথচলায় পাশে থেকেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
প্রশ্ন : এরপর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
উত্তর : ভবিষ্যতে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নিজেকে একজন দক্ষ পরমাণুবিজ্ঞানী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বিশেষ করে, নিউক্লিয়ার বিজ্ঞান ও রেডিয়েশন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে দেশের বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির উন্নয়নে অবদান রাখাই আমার লক্ষ্য। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় যুক্ত হয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বপরিসরে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতে চাই।
প্রশ্ন : পদার্থবিদ হিসেবে কাকে আপনার আদর্শ মনে করেন?
উত্তর : সত্যি বলতে, আমি এখনো নিজেকে একজন পদার্থবিদ হিসেবে দেখার মতো অবস্থানে পৌঁছাতে পারিনি। তাই নিজেকে সেই মর্যাদার আসনে বসিয়ে কারো মূল্যায়ন করা আমার জন্য সহজ নয়। বিজ্ঞানের ইতিহাসে অসংখ্য বিজ্ঞানীর নিরলস অবদান আজকের আধুনিক বিশ্বের ভিত্তি গড়ে তুলেছে। তাই একজনকে আলাদাভাবে আদর্শ হিসেবে বেছে নেওয়া সত্যিই কঠিন। তবে যদি একজনের নাম বলতে হয়, তাহলে আমি স্যার আলবার্ট আইনস্টাইনকেই বেছে নেব। তার বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারা, কৌতূহল, সৃজনশীলতা এবং মানবকল্যাণে বিজ্ঞানের প্রয়োগ নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
প্রশ্ন : বাংলাদেশে পদার্থবিজ্ঞানের সম্ভাবনাময় খাতগুলো কী কী?
উত্তর : আমার কাছে বাংলাদেশ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণার সম্ভাবনার দিক থেকে একটি বিশাল সাদা ক্যানভাসের মতো। যেখানে কিছু ক্ষেত্রে উন্নয়নের রঙ লেগেছে, কিন্তু এখনো অসংখ্য ক্ষেত্র গবেষণা ও উদ্ভাবনের অপেক্ষায় রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল এবং গবেষণায় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এই ক্যানভাসে নতুন সম্ভাবনার অসংখ্য রঙ যোগ করা সম্ভব।
পদার্থবিজ্ঞানের সম্ভাবনাময় খাতগুলোর মধ্যে পরমাণু শক্তি, ন্যানোপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি এবং মেডিকেল ফিজিকস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং ন্যানোপ্রযুক্তির গবেষণা শিল্প, চিকিৎসা, কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আমাদের প্রতিবেশী অনেক দেশ এসব প্রযুক্তির গবেষণা ও প্রয়োগে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশেও এ খাতে কাজ হচ্ছে, তবে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে গবেষণা অবকাঠামো, অর্থায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে আরো জোর দেওয়া প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি, যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া গেলে পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশও বিশ্বে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
মাস্টার্স পরীক্ষায় ৪-এর মধ্যে ৪ সিজিপিএ অর্জনের এই সাফল্য গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় তার ভবিষ্যৎ পথচলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। চাকরি, গবেষণা এবং পড়াশোনাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তার এই অর্জন দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

