প্রভোস্টের মুখোমুখি

ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই সময়োপযোগী আবাসিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই

ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই সময়োপযোগী আবাসিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই
প্রফেসর মো. আব্দুস সালাম, অধ্যাপক, রসায়ন বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; প্রভোস্ট, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী আবাসিক হল ‘সলিমুল্লাহ মুসলিম হল’। প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাসে এই হল শুধু শিক্ষার্থীদের আবাসনই নিশ্চিত করেনি, বরং দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসংখ্য নেতা, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর হলটির নিরাপত্তা, সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রভোস্ট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুস সালাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন

মো. সাইফুল ইসলাম

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন : সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

উত্তর : সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হল নয়, এটি বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, নেতৃত্ব ও জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রায় এক শতাব্দী ধরে এই হল মেধা, মনন ও নেতৃত্বের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই হলের শিক্ষার্থীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাই আমি মনে করি, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল একটি জীবন্ত ঐতিহ্য, যা আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।

প্রশ্ন : এই হলের নেতৃত্বে একসময় প্রফেসর এফ সি টার্নার, প্রফেসর সত্যেন্দ্রনাথ বসুর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আপনার এই দায়িত্বকে কীভাবে দেখেন?

উত্তর : এটি নিঃসন্দেহে আমার জন্য অনেক বড় সম্মান, একই সঙ্গে অনেক বড় দায়িত্ব। যারা এই হলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ সময়ে শিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাদের উত্তরসূরি হিসেবে আমার চেষ্টা থাকবে এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে বর্তমান সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি নিরাপদ, আধুনিক, গবেষণাবান্ধব ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের ইতিহাসে এই হলের সবচেয়ে বড় অবদান কী?

উত্তর : আমার মতে, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সবচেয়ে বড় অবদান হলো নেতৃত্ব সৃষ্টি। এই হল থেকে দেশের রাষ্ট্রপতি, জাতীয় নেতা, শিক্ষাবিদ, প্রশাসক, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বহু ব্যক্তিত্ব বেরিয়ে এসেছেন। শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, জাতীয় চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম গড়ে তোলার ক্ষেত্র হিসেবেও এই হলের অবদান অসামান্য। দেশের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে এখানকার শিক্ষার্থীরা সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

প্রশ্ন : ভূমিকম্পের পর নিরাপত্তা ও সংস্কার নিয়ে প্রশাসনের বর্তমান পরিকল্পনা কী?

উত্তর : শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ভূমিকম্পের পর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কিছু স্থানে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। ভবনগুলোর কারিগরি মূল্যায়ন, সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। আমাদের লক্ষ্য হলো ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য সংরক্ষণ করে নিরাপদ ও টেকসই আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

প্রশ্ন : আগামী দিনের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল নিয়ে আপনার স্বপ্ন বা ভিশন কী?

উত্তর : আমি এমন একটি সলিমুল্লাহ মুসলিম হল দেখতে চাই, যেখানে শতবর্ষের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ থাকবে, কিন্তু সুযোগ-সুবিধা হবে সময়োপযোগী। এটি হবে নিরাপদ, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিচ্ছন্ন, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চাবান্ধব একটি আবাসিক হল। এখানকার প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন শুধু একটি ডিগ্রি নয়, একজন সৎ, দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমার বিশ্বাস, ঐতিহ্যকে ধারণ করে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ভবিষ্যতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের অন্যতম সেরা আবাসিক হল হিসেবে তার মর্যাদা ধরে রাখবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন