এডিসনের বিখ্যাত আবিষ্কার

এডিসনের বিখ্যাত আবিষ্কার

বিজ্ঞানী টমাস এলভা এডিসনের নাম শোনেনি, এমন মানুষ খুব কমই আছে। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী। জন্মগ্রহণ করেছিলেন আমেরিকার ওহিও অঙ্গরাজ্যের মিলানে, ১৮৪৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি— মারা যান ১৯৩১ সালের ১৮ অক্টোবর। অসংখ্য আবিষ্কার করেছিলেন তিনি। সেসব আবিষ্কারের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত বলে মনে করা হয় দীর্ঘস্থায়ী বৈদ্যুতিক বাতিকে। তবে ফোনোগ্রাফ (গ্রামোফোন), মোশন পিকচার ক্যামেরা এবং ভোট গণনা মেসিন, টেলিফোনের উন্নত ট্রান্সমিটারের মতো আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেছেন তিনি। বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপাদন, গণযোগাযোগ এবং শব্দ রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং তার আবিষ্কারগুলো মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

বিজ্ঞাপন

এডিসনের কয়েকটি প্রধান আবিষ্কার

বৈদ্যুতিক বাতি : আমরা যে বৈদ্যুতিক বাল্ব বা বাতি ব্যবহার করি, এর আবিষ্কারক এডিসন। তিনিই প্রথম এমন একটি ইনক্যান্ডেসেন্ট লাইট বাল্ব তৈরি করেন, যা দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলে থাকতে সক্ষম হবে।

ফোনোগ্রাফ : ‘ফোনোগ্রাফ’ যন্ত্রটি ‘গ্রামোফোন’ নামে পরিচিত। এটি এমন একটি যন্ত্র, যা রেকর্ড করা শব্দ আবার বাজাতে সক্ষম।

মোশন পিকচার ক্যামেরা : সাধারণ ক্যামেরায় যেসব ছবি তোলা হয়, সেগুলো স্থিরচিত্র। আর এডিসন আবিষ্কৃত মোশন পিকচার ক্যামেরায় গতিশীল ছবি তোলা সম্ভব হয়। মোশন পিকচার ক্যামেরা চলচ্চিত্র তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়।

টেলিফোন ট্রান্সমিটার : বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল টেলিফোন আবিষ্কার করেন। তার আবিষ্কৃত টেলিফোনের মাধ্যমে খুব দূরবর্তী স্থানে খবর পাঠানো সম্ভব হতো না। এ সমস্যা থেকে বের হয়ে আসার জন্য টমাস এলভা এডিসন একটি নতুন ট্রান্সমিটার তৈরি করেন, যা টেলিফোনের শব্দকে বহু দূরবর্তী স্থানে পাঠানোর কাজকে সহজ করে দিয়েছে।

এডিসন বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপাদন এবং গণযোগাযোগের ক্ষেত্রেও অনেক ডিভাইস তৈরি করেন। তিনি একটি শিল্প গবেষণাগারও প্রতিষ্ঠা করেন, যা ছিল বিশ্বের প্রথম শিল্প গবেষণাগার।

এডিসনের আবিষ্কারগুলো শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিকেই ত্বরান্বিত করেনি, বরং মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এডিসন তার আবিষ্কারের ওপর মোট ১,০৯৩টি পেটেন্টের অধিকারী, যা তার উদ্ভাবনী প্রতিভার এক অন্যতম প্রমাণ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন