‘শিশুদের চোখে জুলাই’ উৎসবের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

‘শিশুদের চোখে জুলাই’ উৎসবের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

‘শিশুদের চোখে জুলাই’ শিরোনামে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে চার দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব ‘জুলাই জাগরণ সিজন-২’এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন হয়েছে। শনিবার বিকালে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে শিশু শিল্পীদের কোরআন তেলাওয়াত, জুলাইয়ের গান এবং আবৃত্তির মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের শুভ সূচনা হয়।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদ আনাসের গর্বিত মা। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শহীদ আনাসসহ সব শহীদের স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, আমাদের সন্তানেরা যে নতুন ও বৈষম্যহীন দেশের স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছে, তরুণ প্রজন্মকে সেই চেতনা ধরে রেখে আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হবে।

সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম সাদ্দাম তার বক্তব্যে বলেন, সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী সব সময় সুস্থ, নৈতিক ও সত্যের পক্ষে অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এসেছে। জুলাইয়ের গণজাগরণ আমাদের নতুন করে আলোর পথ দেখিয়েছে। আমাদের শিশু-কিশোর ও তরুণদের হাত ধরেই আগামীর সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক বিপ্লব বাস্তবায়িত হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সংসদ থেকে শুরু করে রাজপথ এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গন—সর্বত্রই ফ্যাসিবাদের সব অবশেষ দূর করতে হবে। গণমানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে এমন সুস্থ সংস্কৃতিচর্চাকে ছড়িয়ে দিতে বিজয়ের চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর ভাইস চেয়ারম্যান সিবাগাতুল্লাহ সিবগা জুলাই গণআন্দোলনে শিশুদের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, জুলাই গণ-আন্দোলনে ১৩৩ জন শিশু শহীদ হয়েছে। কোমলমতি এই শিশুদের ত্যাগ ও বীরত্বের স্মৃতি তুলে ধরে তরুণ প্রজন্মকে আগামীর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, জুলাই আন্দোলন রাজনৈতিক ভিত্তির চেয়ে সাংস্কৃতিক দিক থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের নতুন প্রজন্মকে কালচারালি নতুনভাবে জেগে উঠতে হবে এবং নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদকে চিরতরে রুখে দিতে হবে।

বিশিষ্ট গীতিকার, সুরকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তাফাজ্জল হোসাইন খান বলেন, এ দেশের আপামর জনসাধারণের মাঝে ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন ও সুস্থ কালচার পৌঁছে দিতে হবে। অপসংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে সত্য ও দেশীয় মূল্যবোধের চর্চাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক ইসলাম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক পরিচালক শরীফ বায়জিদ মাহমুদ ও আবদুল্লাহ আল নোমান, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের এবং সদস্য সচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা।

আলোচনা পর্বের পাশাপাশি সাইমুমের শিশু শিল্পীদের পরিবেশনায় দলীয় ও একক সংগীত, কবিতা আবৃত্তি এবং ‘জুলাই জাগরণ’-এর বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের ব্যাপকভাবে আলোড়িত করে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন