চবিতে ‘আজাদীর বই উৎসব’, শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ

চবিতে ‘আজাদীর বই উৎসব’, শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ
আজাদীর বই উৎসবে আমার দেশ-এর সহযোগী সম্পাদক ও হেড অব এডিটোরিয়াল আলফাজ আনাম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার দেশ-এর সহযোগী সম্পাদক ও হেড অব এডিটোরিয়াল আলফাজ আনামের ‘আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হাসিনার পতন ও পলায়ন’ বই নিয়ে ‘আজাদীর বই উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার বিকেলে চাকসু ভবনের সামনে চাকসুর মুক্তিযোদ্ধা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক বিভাগের উদ্যোগে এই বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর, ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, জিএস সাঈদ বিন হাবিব, মুক্তিযোদ্ধা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ এবং প্রচ্ছদ প্রকাশনীর এমডি আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আলফাজ আনাম বলেন, ‘আজকে আমরা যে নামটা দিয়েছি—আজাদীর বই উৎসব, আমাদের প্রথমে জানতে হবে, আজাদী কী? আমরা কার কাছ থেকে, কিসের আজাদী পেলাম? আজাদী ফার্সি শব্দ, যার অর্থ মুক্তি। আমরা গত দেড় দশকে এক ধরনের পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ ছিলাম। সেই পরাধীনতা থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি, যেখানে আমাদের কোনো ভবিষ্যৎ ছিল না, কথা বলার স্বাধীনতা ছিল না। আমরা এখন যে জিনিসটা পেয়েছি, সেটা হলো কথা বলার স্বাধীনতা।’

জুলাইয়ের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের শুরুর দিকে আমরা যখন কিছু সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতা বসতাম, তখন আমাদের মনে হয়নি যে এত লোক মারা যাবে। এটা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। ফলে আজাদী এসেছে রক্তের মধ্য দিয়ে।’

তরুণদের উদ্দেশে আলফাজ আনাম বলেন, ‘এই বইয়ের আপনারাও অংশীদার। কারণ, আপনারা এই আন্দোলন দেখেছেন, অনেকে অংশ নিয়েছেন। ফলে এর প্রতিটি লাইন আপনাদের তাড়িত করবে। আপনাদের মনে হবে—হ্যাঁ, আমরাও তো গিয়েছিলাম। অথবা আপনারা শুনবেন, আপনাদের বন্ধুবান্ধবরা গিয়েছিল।’

চাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘ইতিহাস যদি আমরা সংরক্ষণ করতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা কী জানাব, কীভাবে জানাব—কী ঘটেছিল, সেটিই বা তারা কীভাবে জানবে? তখন দেখা যাবে, একেকজন একেক ধরনের গল্প বলবে। বিষয়টি তখন অন্ধের হাতি দেখার মতো হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো বিষয়কে সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে হলে তার লিখিত প্রমাণ থাকা দরকার। ইতিহাস লিখিতভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এই উদ্যোগের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’

চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার পলায়নের মুহূর্তটি ছিল এক ধরনের রোমাঞ্চকর মুহূর্ত। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের পর তার পলায়নের খবর সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দের সৃষ্টি করেছিল। সাধারণ জনগণ তখন খুবই খুশি হয়েছিল। সেই সময়ের কথা আমাদের মনে রাখতে হবে এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, শেখ হাসিনার পথ ধরে যারা এগোচ্ছে, তাদের পরিণতিও একই হবে। ক্ষমতায় থেকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও অধিকারকে উপেক্ষা করলে শেষ পর্যন্ত তাদেরও একই পরিণতি হতে পারে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন