পুলিশের টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেটে ১৮ জুলাই আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ওমর বিন নুরুল আবছার। বুলেটের ক্ষত না শুকাতেই আবারো নামেন আন্দোলনে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে হাসিনা পালানোর পর ঢাকার উত্তরায় যোগ দেন আনন্দ উৎসবে। সেই উৎসবেই পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন নিমিষেই চুরমার হয়ে যায়। পরিবারের হালও ধরা হলো না তার।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার আকুবদণ্ডির ২ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুল আবছার ও রুবি আখতারের ছেলে ওমর।
ওমরের বড় ভাই হেলাল উদ্দিন জানান, সে ছিল দুর্দান্ত মেধাবী। চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স ট্রেনিং সেন্টারে (বিএটিসি) পড়ছিল সে। উত্তরায় বন্ধুদের সঙ্গে থাকত। তিন বছরের কোর্সের ১৩টি মডিউলের মধ্যে ১২টি শেষ করেছিল। এরই মধ্যে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সে পেয়েছিল কাজের সুযোগ।
হেলাল বলেন, কিন্তু ঘাতকের বুলেট ওমরকে ক্ষত-বিক্ষত করে দিল। ওমরের সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হলো আমাদের পুরো পরিবারের স্বপ্নের। আমার ভাই দেশ ও দশের জন্য জীবন দিয়েছে, আমরা চাই দেশটা ভালো থাকুক। আমার ভাই ওমরসহ এই আন্দোলনে যারা মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই।
ওমরের বোন জান্নাতুল হুরাইন বলেন, ওমর ছিল আমাদের দ্বিতীয় অভিভাবক। সে আমাদের ইহকাল-পরকাল দুইকালেই সম্মানিত করে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি।
ওমরের মা রুবী আখতার বলেন, ৫ তারিখ আমি ওমরের মোবাইলে কল করলে ফোন অন্যজন রিসিভ করে। বলেছিল, ওমরের পায়ে গুলি লেগে আহত হয়েছে, তেমন কোনো অসুবিধা নেই ভালো হয়ে যাবে। পরে খবর নিয়ে জানতে পারি আহত অবস্থায় ওমরকে বাংলাদেশ মেডিকেলে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে আমার ছেলেটি মারা গেল। ইঞ্জিনিয়ার হয়ে পরিবারের হাল ধরার স্বপ্নটি তার আর পূরণ হলো না। আমার ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমাকে বলেছিল আম্মু আমি অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গিয়েছিল প্রায়। কিন্তু আল্লাহ তাকে নিয়ে গেছেন।
ওমরের বাবা নুরুল আবছার দীর্ঘদিন থেকে সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছিলেন। ওমরের মৃত্যুর খবর পেয়েই তিনি ছুটে আসেন দেশে। পড়ান নিজের ছেলের জানাজা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

