মাত্র দুই দিন আগেই ফোনে জানিয়েছিলেন ‘চিকিৎসা নেওয়া শেষ। আগামী শুক্রবার একসঙ্গে জুমার নামাজে অংশ নেব।’ তিনি এসেছেন সত্য। তবে জীবিত, নন মৃত। মসজিদের মাঠে নামাজও হবে, তবে সেটি হবে সাজু ভাইয়ের জানাযা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন কলকাতায় আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামানের সহযোগী গোলাম রসুল। পাশেই বিলাপ করছিলেন তার বড় ভাবি কানিজ ফাতেমা। বাকরুদ্ধ বড় ভাই এস এম সাহেব আলী সরদার। পুরো এলাকায় যেন চলছে মাতম। অবিবাহিত সাজু এলাকায় একজন সৎ, মিষ্টভাষী ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে ভীষণ প্রিয় ছিলেন। তার অকালমৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।
এদিকে, একই সঙ্গে মারা যাওয়া রেবতি সরকারের বাড়িতে সুনসান নীরবতা। বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বারান্দার গ্রিলে তালা দেওয়া। স্বামী ভবেশ সরকার ভিসা করানোর জন্য বুধবার দুপুরে ঢাকায় গেছেন। আর রাতে খবর পান স্ত্রী মারা গেছেন।
আলিমুজ্জামান সাজুর প্রতিবেশী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকার ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান সাজু ভাই। কিন্তু তিনি ছিলেন নিরহংকারী মানুষ। এলাকার সব মানুষের বিপদে-আপদে সব সময় পাশে থাকতেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিয়ে করেননি। পিতা-মাতাও মারা গেছেন অনেক বছর আগে। অভিভাবক বলতে বড় ভাই আর ভাবি। সুস্থ হতে গিয়ে প্রাণটাই চলে গেল। তার এমন মৃত্যুতে এলাকার প্রত্যেক মানুষ শোকাহত। এখন একটাই দাবি, সাজু ভাইয়ের লাশ দ্রুত দেশে আনা হোক।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউমার্কেট-সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন সাতক্ষীরার আলিমুজ্জামান সাজু ও রেবতী সরকার।
আলিমুজ্জামান সাজু উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুস সরদারের ছোট ছেলে এবং রেবতি সরকার একই ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী। কোমরের তীব্র ব্যথায় দীর্ঘদিন ভুগছিলেন সাজু। উন্নত চিকিৎসার আশায় চার-পাঁচ দিন আগে ভারতে যান তিনি। বুধবারই চিকিৎসা শেষে প্রিয় স্বজনদের কাছে ফেরার কথা ছিল তার।
অন্যদিকে, একই উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের দ্বীনমজুর ভবেশ সরকারের স্ত্রী রেবতী সরকারের বাড়িতেও নেমে এসেছে অন্ধকার। রেবতীর একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে রয়েছে। সদালাপি রেবতীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে পড়েছেন প্রতিবেশীরাও।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ উভয় পরিবারের বাড়িতে খোজখবর নিয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কায়সার আজিজ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইতিমধ্যে উভয় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এ ছাড়া কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতদের লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-b94ac3.jpg)