আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নওয়াব সলিমুল্লাহ

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলমগীর

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নওয়াব সলিমুল্লাহ

ঢাকার নওয়াবদের শিক্ষামূলক কার্যকলাপের মধ্যে ঢাকায় ‘আহসানুল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল’ প্রতিষ্ঠা ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। প্রতিষ্ঠানটি পর্যায়ক্রমে রূপান্তরিত ও উন্নীত হয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পরিণত হয়েছে। উনিশ শতকের শেষার্ধে ঢাকায় স্থাপিত একটি সার্ভে স্কুল ঢাকার নওয়াবদের বদান্যতায় বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ পেয়েছিল।

পটভূমি

বিজ্ঞাপন

ভূমি জরিপ কাজে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য ব্রিটিশদের স্থানীয় প্রশাসন ঢাকায় একটি সার্ভে স্কুল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গ্রহণ করে। ১৮৭৬ সালে ঢাকা কলেজের সংশ্রবে ঢাকার নলগোলায় একটি ভাড়া করা বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘ঢাকা সার্ভে স্কুল’। তখন সিদ্ধান্ত হয়, এই স্কুলের শিক্ষার মাধ্যম হবে বাংলা।’ এই স্কুলে প্রতি বছর মাত্র ৩৫ জন ছাত্র ভর্তি করা হত। ভর্তির জন্য মাইনর বা ভার্নাকুলার স্কলারশিপ একজামিনেশন পাস হতে হত। ছাত্রদের বার্ষিক বেতন ছিল মাত্র ১ টাকা। বৃত্তি প্রাপ্তদের বেতন দিতে হত না। প্রথম বার্ষিক ফলাফলের উপর বৃত্তি দেয়া হত। প্রতি বছর ৫ টাকার ৬ টি বৃত্তি দেয়া হত। দূর্গাপূজার সময় স্কুল ছুটি থাকত।

এই সার্ভে স্কুলে শিক্ষাক্রমের মেয়াদ ছিল দুই বছর। পাস করলে সার্ভেয়ার বা কানুনগো হওয়া যেত। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটির প্রতি ছাত্রদের বেশ আগ্রহ জন্মে। ১৮৯০ সালে স্কুলটিতে ছাত্রসংখ্যা ছিল ২২২ জন এবং ১৮৯৬ সালে ছাত্রসংখ্যা বেড়ে হয় ৪০০ জন। (ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী, মুনতাসির মামুন, পৃষ্ঠা : ১৭।)

১৮৯৭ সালে কোর্সে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়। তখন দুই বছরের বদলে তিন বছরের কোর্স চালু করা হয়। প্রথম বছর পাস করলে দেয়া হত আমিনের সার্টিফিকেট এবং তিন বছর পরে দেয়া হত সার্ভে ফাইনাল সার্টিফিকেট। তিন বছর পড়ার পরে যদি কেউ আরও পড়তে চাইতো তাহলে তাকে শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হতে হত। ১৮৯৮ সালে সরকার শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের জে. এস. স্লেটারকে বাংলা প্রদেশে টেকনিক্যাল এডুকেশন উন্নয়ন বিষয়ে এক রিপোর্ট দিতে বলে। স্লেটার সাহেব তার রিপোর্টে ঢাকা সার্কে স্কুলটি উন্নতির কথা বলেন যাতে অন্তত ওভারশিয়র পর্যন্ত পড়ানো যায়। (ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী, মুনতাসির মামুন, পৃষ্ঠা : ২১৪।)

নওয়াবের সংশ্লিষ্টতা ও বদান্যতা

ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মি. সেভেজ ১৮৯৯ সালে ঢাকায় একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব উত্থাপন করলেও অর্থাভাবে তা বাস্তবায়ন হয়নি। মহারানী ভিক্টোরিয়ার মৃত্যু উপলক্ষে ১৯০১ সালের ৭ফেব্রুয়ারি পল্টন ময়দানে নওয়াব খাজা আহসানুল্লাহ ও এ অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সরকারি কর্মকর্তাগণ সম্মিলিতভাবে একটি বড় ধরনের শোকসভা করেন। সেই সভায় মহারানীর স্মৃতিতে ঢাকায় একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব পুনরায় আলোচিত হয়। (ঢাকা প্রকাশ, ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯০১, পৃষ্ঠা : ৬-৭।) শেষ পর্যন্ত বিভাগীয় কমিশনার মি. সেভেজ, ঢাকার সার্ভে স্কুলকে ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে উন্নীত করার উদ্যোগ নেন এবং এজন্য সম্ভাব্য ব্যয় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। (ঢাকা প্রকাশ, ৬ এপ্রিল ১৯০২।) এই ব্যয়ানুমানের মধ্যে ৩০ হাজার টাকা সরকার দিতে চান এবং বাকি ১ লক্ষ টাকা স্থানীয়ভাবে চাঁদার মাধ্যমে সংগ্রহ করার জন্য তৎকালীন ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট র‍্যাকিন সাহেবকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তৎকালীন ডাকবাংলোর কাছে স্কুলের জন্য নতুন করে ভবনা নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়। (ঢাকা প্রকাশ, ৬ এপ্রিল ১৯০২।) কিন্তু চাঁদার বিষয়ে তেমন কেউ আগ্রহ দেখায়নি এবং এর ফলে পরিকল্পনাটি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হল। এমন সময় ঢাকার বদান্যবর নওয়াব খাজা আহসানুল্লাহ এ কাজে এগিয়ে আসেন এবং এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থদানের প্রতিশ্রুতি দেন। (ঢাকা নওয়াব কোর্ট অব ওয়ার্ডস এন্ড ওয়াকফ এস্টেট অফিসে রক্ষিত পরনো নথি, পৃ. ডি-১৮।) নওয়াব আহসানুল্লাহর দেয়া প্রতিশ্রুতির পর সরকার এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেন। মি. প্লেটারের দেয়া পূর্বের রিপোর্ট অনুযায়ী ঢাকার সার্ভে স্কুলটিকে ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে রূপান্তর করার ব্যবস্থা নেয়া হয়। ১৯০২ সালে স্কুলের জায়গা, ভবনাদি নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১,৭২,০০০ টাকা। এর মধ্যে সরকার সর্বসাকুল্যে বরাদ্দ করেন মাত্র ৬০,০০০ টাকা। (ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী, মুনতাসির মামুন, পৃষ্ঠা : ২১৪।) বাকি ১,১২,০০০ টাকা নওয়াবের দেয়ার পালা। কিন্তু ১৯০১ সালের ১৬ ডিসেম্বর নওয়াব আহসানুল্লাহ ইন্তেকাল করায় প্রতিশ্রুত অর্থ প্রদান করে যেতে পারেননি। এদিকে নওয়াব এস্টেটের কোষাগারে তখন এতো অর্থদানের মত সঞ্চয় ছিল না। ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গড়িমসি শুরু হয়। তবে নওয়াব আহসানুল্লাহর পুত্র খাজা সলিমুল্লাহ (পরবর্তী নওয়াব) পরিবারের সদস্যদেরকে বুঝিয়ে-সুজিয়ে পরলোকগত নওয়াবের এ মহান প্রতিশ্রুতি পূরণে এগিয়ে আসেন। তিনি ধার-কর্জ করে ১৯০২ সালের এপ্রিল মাসে ১ লক্ষ ১২ হাজার টাকা সরকারের হাতে অর্পণ করেন। নওয়াবের এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তখনই প্রতিষ্ঠানটির নামকরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ‘আহসানুল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল’। (ঢাকা প্রকাশ, ৬ এপ্রিল ১৯০২, পৃষ্ঠা : ৪।) অর্থদানের সময় নওয়াব সলিমুল্লাহ ঘোষণা করেন, তার পিতামহ নওয়াব আবদুল গনির প্রতিষ্ঠিত ‘আবদুল গনি ফ্রি হাই স্কুল’ এবং ঢাকা মাদরাসা থেকে পাস করে যারা এই ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে ভর্তি হতে পারবেন, তাদের অন্তত ৪ জনকে তিনি বৃত্তি দান করবেন।(ঢাকা প্রকাশ, ৬ এপ্রিল ১৯০২, পৃষ্ঠা : ৪।)

ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল প্রতিষ্ঠা

নওয়াবের দানে প্রতিষ্ঠিতব্য ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের জন্য বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শহীদুল্লাহ হলের পূর্বাংশে স্থান নির্বাচন করা হয়। এর ভিত্তি প্রস্তার স্থাপনের জন্য বঙ্গের ছোটলাট স্যার জন উডবার্ন ১৯০২ সালের ২১ জুলাই সান্ত্রীক ঢাকায় আসেন এবং নওয়াবের অতিথিরূপে আহসান মঞ্জিলে অবস্থান করেন। পরদিন ২২ জুলাই বিকেল সাড়ে পাঁচটায় তিনি আহসানুল্লাহ ইাঞ্জনিয়ারিং স্কুলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। (ঢাকা প্রকাশ, ২৯ জুন, ১৩ ও২৭ জুলাই ১৯০২।) ঠিক করা হয়েছিল, ১৯০৩-৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই স্কুলে তিন বছর মেয়াদী ওভারশিয়র কোর্সে ছাত্র ভর্তি করা হবে। ১৯০৪ সালের নভেম্বর মাসে ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল তার কাজ শুরু করে। শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সিলেবাস অনুযায়ী সেই কোর্সের পাঠ্যসূচি নির্ধারণ করা হয়। এন্ট্রান্স কিংবা ইউরোপীয় ৭ম স্ট্যান্ডার্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্ররা উত্ত কোর্সে ভর্তি হতে পারত। (ঢাকা প্রকাশ, ২৪ এপ্রিল ও ১৯ জুন, ১৯০২।) উল্লেখ্য, ১৯০৬ সালে স্থানীয় প্রভাবশালীদের অনুরোধে কয়েকজন প্রবেশিকা অকৃতকার্য ছাত্রকে উক্ত স্কুলে ভর্তি করা হলে ছোটলাটের নির্দেশে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়। (ঢাকা প্রকাশ, ৮ জুলাই, ১৯০৬।) ঢাকায় আহসানুল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল পরিচালনার জন্য বিহার ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের বেতন কাঠামোকে অনুসরণ করা হয়েছিল। বিহার স্কুলে তৎকালীন মাসিক খরচ ছিল ১৪৩৯ এবং ঢাকার স্কুলের খরচ ধরা হয় ১৪৮১ টাকা যা বাংলা সরকার কর্তৃক গৃহীত হয়।

১৯০৫ সালে বঙ্গবিভাগের ফলে ঢাকা নতুন প্রদেশের রাজধানীর মর্যাদা পায় এবং বঙ্গবিভাগের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে ব্রিটিশ সরকারের কাছে নওয়াব সলিমুল্লাহর গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটে নওয়াবের দানে ঢাকায় স্থাপিত স্কুলটির গুরুত্ব এতটাই দেয়া হয়েছিল যে, এর জন্য উপযুক্ত একজন হেডমাস্টার নিয়োগে ব্রিটিশ সরকার অনেক শ্রম ব্যয় করেছিল এবং অনেক খুঁজাখুজির পর মি. আর্নল্ডকে এর প্রথম হেডমাস্টার হিসেবে পাওয়া যায়। ১৯০৫ সালের মে মাসে স্কুলের হেডমাস্টার বাবু হরিচরণ নাগ পদত্যাগ করলে মি. আর্নল্ডকে হেডমাস্টার পদে নিযুক্ত করা হয়। (ঢাকা প্রকাশ, ২১ মে ১৯০৫, পৃষ্ঠা : ৩।)

মি. আর্নল্ড-এর জন্ম ১৮৭৩ সালে এবং তিনি বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাসন কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী পান ১৮৯৪-৯৬ সালে। ঢাকায় যোগদানের আগে তিনি মিডলসবারো মিউনিসিপ্যাল টেকনিক্যাল ক্লাসেস এন্ড হাই স্কুলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চীফ লেকচারার ছিলেন। (ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী, মুনতাসির মামুন, পৃষ্ঠা : ২১৫।)

১৯০৬ সালে নলগোলার পুরনো ক্যাম্পাস থেকে বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শহীদুল্লাহ হলের দক্ষিণাংশে অবস্থিত নবনির্মিত ক্যাম্পাসে স্কুলটিকে স্থানান্তর করা হয়। স্থানান্তরকালে ভারী ভারী যন্ত্রপাতি গরুর গাড়ি বোঝাই করে নেবার সময় গাড়ির চাকা মাটিতে দেবে যায়। ছাত্ররা তখন দল বেঁধে গিয়ে গাড়িটা টেনে তোলে। এজন্য হেডমাস্টার আর্নল্ড সাহেব ছাত্রদেরকে ২০ টাকা বখশিশ দিয়েছিলেন। (ছাত্ররা টাকাটা দুর্ভিক্ষ প্রপীড়িতদের তহবিলে দিয়েছিল। ঢাকা প্রকাশ, ৮ জুলাই ১৯০৬, পৃ. : ৪।) শহীদুল্লাহ হল এলাকায় সেই স্কুলের কোন চিহ্ন এখন নেই। তবে স্মৃতি হিসেবে কিছুদিন আগেও দাঁড়িয়েছিল উঁচু একটি চিমনি-টাওয়ার। চিমনিটা স্কুলের ওয়ার্কশপের কাজে লাগত। এর পাশেই ছিল স্কুলের জন্য একতলা ভবন। ছাত্ররা থাকত তৎকালীন ঢাকা হলের (বর্তমান শহীদুল্লাহ হল) এক তলায়।

১৯০৭ সালে হেডমাস্টার আর্নল্ড সাহেব মারা যান। এরপর কয়েকজন সাময়িকভাবে এর ভার গ্রহণ করেন। (ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী, মুনতাসির মামুন, পৃষ্ঠা : ২১৫।) ১৯০৮ সালে মোট ২২ জন উচ্চপদস্থ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে সরকার নওয়াব স্যার খাজা সলিমুল্লাহকেও এই স্কুলের একজন পরিদর্শক নিযুক্ত করা হয়। (ঢাকা প্রকাশ, ১৯ এপ্রিল ১৯০৮।) সে বছরেই প্রতিষ্ঠানটির ওভারশিয়র কার্যক্রম কারিগরি পরীক্ষা বোর্ডের অনুমোদন লাভ করে। (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় অতীত বর্তমান, সমাবর্তন (স্মরণিকা) ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২, প্রফেসর, আ. স. ও. কারণী, পৃষ্ঠা : ১।) ঐ সময় স্কুলের ছাত্রসংখ্যা ছিল ৩৭৫ জন।

১৯১০ সালে মি. এন্ডারসনকে হেডমাস্টার পদে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯১৩ সালে এখানে যন্ত্র ও তড়িৎকৌশল ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা হলেও ১৯১৬ সালে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৯০৯ সালের ২৬ মার্চ পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থাপক সভায় সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী স্কুলটিকে কলেজে উন্নীত করার প্রস্তাব করেন। (ঢাকা প্রকাশ, ২৮ মার্চ, ১৯০৯।)

শুরু থেকেই ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলটি ঢাকা কলেজের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৯২০ সালে সেটাকে জনশিক্ষা পরিচালকের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধানকে অধ্যক্ষ নামে অভিহিত করা হয়। মি. এন্ডারসন এ স্কুলের প্রথম অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় অতীত বর্তমান, সমাবর্তন (স্মরণিকা) ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২, প্রফেসর, আ. স. ও. কারণী, পৃষ্ঠা : ১।) পূর্ববঙ্গ ও আসাম সরকারের ছাপাখানার জন্য নির্মিত ফুলার রোড সংলগ্ন সুপরিসর ভবনে ১৯২০ সালে স্কুলটিকে স্থানান্তর করা হয় খুব সম্ভব এর প্রথম বাঙ্গালী অধ্যক্ষ (১৯৩২-৩৮) ছিলেন মি. বি. সি. গুপ্ত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকার বাংলায় শিল্পায়নের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এ অঞ্চলে দক্ষ জনশক্তির অভাব প্রকট হয়ে দেখা দেয়। এর প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ সরকার ‘কমিটি অব হায়ার এডুকেশন’ নামে একটি কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি স্কুলটিকে কলেজে উন্নীত করার প্রস্তাব করেছিল। সে প্রস্তাবানুসারে ১৯৪৬-৪৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন ছাত্র নিয়ে ঢাকায় নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ যাত্রা শুরু করে। (বুয়েট পরিচিতি ২০১০, ছাত্র কল্যাণ পরিদফতর, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত পস্তিকা, পৃষ্ঠা : ২।) ১৯৪৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার এখানে আই.এস.সি. পাস ছাত্রদের ডিগ্রী পর্যায়ে এবং ম্যাট্রিক পাস ছাত্রদের ডিপ্লোমা পর্যায়ে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। জনাব হাকিম আলী এ কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ হন। এই পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির নাম থেকে নওয়াব আহসানুল্লাহর নাম বাদ দিয়ে এর নতুন নামকরণ করা হয় ‘ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’। তবে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী জনাব আবদুল হামিদ উক্ত প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘আহসানুল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ রাখার নির্দেশ দেন (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় অতীত বর্তমান, সমাবর্তন (স্মরণিকা) ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২, প্রফেসর, আ. স. ও. কারণী, পৃষ্ঠা : ২-৩।) কিন্তু এ নামটি আর মাত্র ১৫ বছর স্থায়ী হয়েছিল। ১৯৫৪ সালে ড.এম.এ. রশীদ এ কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। ১৯৬১ সালে ড.এম.এ. রশীদ কারিগরি শিক্ষা পরিচালকের যোগদান করেন এবং ড. ওয়াকার আহমদ অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন।

১৯৬২ সালের ১ জুন পাকিস্তান সরকার এই কলেজটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করে। তখন এর নামটি বদলিয়ে রাখা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় অতীত বর্তমান, সমাবর্তন (স্মরণিকা) ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২, প্রফেসর, আ. স. ও. কারণী, পৃষ্ঠা : ২-৩।) কারিগরি শিক্ষা পরিচালক ড. এম. এ. রশিদ প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর নিযুক্ত হন। তবে নওয়াব আহসানুল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নামকরণ করেন, আহসানুল্লাহ হল। উল্লেখ্য, কলেজটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবার কয়েক বছর আগেই ১৯৫৮ সালে হলটি তৈরি হয়েছিল এবং আগে সেটার নাম ভিল নিউ হোস্টেল। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে নওয়াব খাজা হাসান আসকারী চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত একজন সদস্য ছিলেন। (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও প্রসার, আহমদ কবির, ডেপুটি রেজিস্ট্রার (অব.) সমাবর্তন (স্মরণিকা) ১৯৯২, পৃষ্ঠা : ৯১।)

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিষয়:

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...