আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি ‘আগ্রহী করে তোলা জরুরি’

মাহমুদুল হাসান আশিক

তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি ‘আগ্রহী করে তোলা জরুরি’

ফাল্গুনের রঙিন বিকালে গতকাল মঙ্গলবার ষষ্ঠ দিনে পা রাখল অমর একুশে বইমেলা। নতুন প্রকাশিত বই সাজিয়ে ক্রেতা-পাঠকের অপেক্ষায় ছিলেন প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা। তাদের বিমুখ করেননি বইপ্রেমী তরুণ-তরুণীরা। বাসন্তী পাঞ্জাবি আর লাল-সাদা শাড়িতে সেজে তারা ভিড় জমিয়েছেন বইমেলা প্রাঙ্গণে।

মেলা প্রাঙ্গণে নানা বয়সের পাঠকরা উপস্থিত ছিলেন, যাদের উপস্থিতি মেলা প্রাঙ্গণকে রঙ ও শব্দের এক মিলনমেলায় পরিণত করেছে। তারা স্টল থেকে স্টলে ঘুরে, বইয়ের গন্ধে ডুবে গিয়ে আগ্রহ নিয়ে প্রিয় লেখকের বই খুঁজছেন। কেউ কিনছেন উপন্যাস, কেউ কবিতার বই, কেউ ইতিহাস বা গবেষণাধর্মী গ্রন্থ। আর কিছু পাঠক থ্রিলার বইও কিনেছেন। রোববার ও সোমবারের তুলনায় গতকাল প্রকাশনার স্টলগুলোতে পাঠক-দর্শনার্থীদের সংখ্যা কিছুটা বেশি ছিল।

বিজ্ঞাপন

বাসাবো থেকে আসা স্বস্তিকা ভট্টাচার্য আমার দেশকে বলেন, সৃজনশীল বই আমাদের মনকে রাঙিয়ে তোলে। আমি এখন পর্যন্ত বই কিনিনি। তবে ঘুরে দেখছি। যেসব বই ভালো লাগবে সেগুলো কিনব। আজকেই কিনব সেটি নয়, আজকে যতটুকু সম্ভব নিব। পরে আবারও এসে বাকিগুলো কিনে নেব। আর প্রকাশকদের বলব, তরুণ লেখকদের সুযোগ দিতে। সেইসঙ্গে নতুন প্রজন্মের কথা ভেবে বইগুলোর জন্য সুন্দর প্রচ্ছদ করার জন্য অনুরোধ করব।

মেলা প্রাঙ্গণের মূল চত্বরে দাঁড়িয়ে দেখা গেল, একদল তরুণ-তরুণী আলোচনা করছেন সমসাময়িক সাহিত্য নিয়ে। সেখানে থাকা তর্নিমা প্রতীতি আমার দেশকে জানান, তার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা। তিনি বলেন, বইমেলা ঘুরলাম। সায়েন্স ফিকশন, থিলিং বই ও কিছু উপন্যাস দেখলাম। নতুন নতুন লেখক দেখা যাচ্ছে। ভালো লাগছে বিষয়টি। তবে মডার্ন লেখক কম। তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে তাদেরকে আরো এগিয়ে আসতে হবে।

তর্নিমার সঙ্গে থাকা শাশ্বত ভট্টাচার্য জানান, আমি তো বই পড়ার সময়ই পাই না। তবে আমি চেষ্টা করি পছন্দের বইগুলো পড়ার। যেমন কাকাবাবু একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েছি। আর সত্য বলতে ইন্টারনেট ও ডিভাইসের কারণে সিরিজ ও ফোন নিয়েই ব্যস্ত থাকি।

মাথায় গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা ও জুই ফুলের প্রিন্সেস হেয়ার ব্যান্ড দিয়ে সেজে মেলার শেষ প্রান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন ধানমন্ডি ও আফতাবনগর থেকে আসা তরুণী প্রমা সাহা ও প্রিয়তি দাস। তাদের পছন্দ সাদাত হোসেনের লেখা। তারা আমার দেশকে জানান, দোল পূর্ণিমা উৎসবে আসার সময়ই বইমেলায় ঘুরে বই কেনার পরিকল্পনা করে এসেছেন তারা।

উত্তরা থেকে বইমেলাতে এসেছিলেন তানজিমুল উম্মাহর শিক্ষার্থী মাহমুদুজ্জামান তাশফি। তিনি সংগ্রহ করেছেন বিখ্যাত বই আরব্য রজনীর গল্প। আর তার সঙ্গে আসা বন্ধু আলিফ মাহমুদ কিরণ কিনেছেন নবীজীর জীবনচরিত সম্পর্কিত বই শামায়েলে তিরমিজি। এছাড়া তারা মাসুদ রানার কয়েকটি বইও কিনে নেন।

বইভর্তি ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বইমেলা ঘুরে বাড়ি ফিরছিলেন অমিত রায়। তিনি আমার দেশকে বলেন, বাচ্চার জন্য শিশুতোষ বই কিনলাম। আর স্ত্রী কিছু বই নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিভূতিভূষণের ‘অতিপ্রকৃত গল্প’।

উৎকর্ষ-এর বিক্রয়কর্মী সাইফুর রহমান আমার দেশকে বলেন, আজকে (মঙ্গলবার) গত দুদিনের তুলনায় বিক্রি মনে হচ্ছে বেশি হবে। এখন পর্যন্ত ভালোই হয়েছে। দোল উৎসবে আসা লোকজনও বই কিনছেন। তারা শার্লক হোমস, পদ্মা নদীর মাঝি, জয়ন্ত মানিক সমগ্র ও পথের পাচালি নিয়েছেন আমার কাছ থেকে।

পাপড়ি প্রকাশনির বিক্রয়কর্মী শাহাদাত বললেন, দোল উৎসবে যারা এসেছেন আজকে তারাই মেলায় বেশি। সবাই আসছেন। কেউ কেউ বই কিনছেন আবার কেউ কেউ ঘুরছেন। তবে কেনার সংখ্যার চেয়ে ঘুরতে আসা লোকজনের সংখ্যা বেশি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন