ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র তৈরি ঠেকাতে নির্ধারিত নিরাপত্তাব্যবস্থা মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ এনে দেশটিকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) । বুধবার কূটনৈতিক কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিচালনা পর্ষদের ৩৫ সদস্যের মধ্যে ২৩ জন বুধবার তেহরানের বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে জানানোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। রাশিয়া, চীন ও নাইজার এই পদক্ষেপের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। ওই প্রস্তাব বর্তমান ইরান যুদ্ধ শুরুর সাত মাস আগে এবং 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার'-এর আওতায় ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক দিন আগে পাস হয়েছিল।
তেহরানের কূটনীতিকেরা দাবি করেন, নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি তোলার উদ্যোগ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো 'পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার নিয়ে কুমিরের কান্না' করছে। একই সঙ্গে তারা 'শান্তিপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় থাকা পরমাণু স্থাপনাগুলোর ওপর নজিরবিহীন ব্যাপক হামলা, নৃশংস যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের' ন্যূনতম মৌখিক নিন্দা জানাতেও 'ভণ্ডের মতো' এড়িয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের জুনে ইরান পরমাণু নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানছে না—এমন ঘোষণা দিয়ে যে প্রস্তাব পাস করা হয়েছিল, বুধবারের পদক্ষেপটি তারই ধারাবাহিকতা।
কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের পরমাণু নীতিবিষয়ক বিভাগের প্রধান ও পদার্থবিদ জেমস অ্যাক্টন বলেন, 'প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিক—দুই কারণেই আমার মনে হয়, ইরান এখন যদি পরমাণু বোমা তৈরি করতে চায়, তাহলে তারা তা তৈরি করবেই। আগামী তিন বছরের মধ্যে ইরানের পরমাণু বোমা অর্জনের সম্ভাবনা '৫০-৫০'।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

