স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের গভীর ষড়যন্ত্র এবং নির্বাচন প্রলম্বিত করার হীন উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রাখার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মধ্য দিয়ে দেশ গণতান্ত্রিক পথে ফিরে আসে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা হলো, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায়ও দ্রুত নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করবেন এবং জনগণের সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গণভোটের গণরায়কে উপেক্ষা করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার হীন আকাঙ্ক্ষায় স্থানীয় নির্বাচন প্রলম্বিত করার উদ্দেশ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের পর ইউনিয়ন পরিষদেও প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রেখেছে, যা জাতির জন্য চরম উদ্বেগের। আমি সরকারের এহেন হীন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশের সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বর্তমানে নির্বাচনযোগ্য ইউনিয়নের সংখ্যা প্রায় ৩১১টি। অথচ সরকার নির্বাচন আয়োজনের দিকে অগ্রসর না হয়ে এখনো দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছে, যা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার নীলনকশা।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত দুই মাসে সাতটি নবগঠিত ইউনিয়নসহ অন্তত ৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া ১৯টি ইউনিয়ন বরিশাল জেলার। আশ্চর্যজনক হলো, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়নে ১২ জন বিএনপি নেতা-নেত্রীকে পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পথকে দীর্ঘমেয়াদে রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্রের অংশ।
তিনি আরো বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সরকার গভীর ষড়যন্ত্র করছে—তাদের কর্মকাণ্ডেই তা প্রমাণিত হচ্ছে। কারণ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চলতি বছরের মধ্যে দেশে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরে নির্বাচন করার কথা জানালেও বছরের চার মাস বাকি থাকতে ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে এখনো প্রশাসক বসানো অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এটি জাতির সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়ার নামান্তর। একই সঙ্গে এটি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের পথ তৈরির হীন কৌশল।
গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচন প্রলম্বিত করার সরকারের হীন উদ্দেশ্য থেকে সরে এসে জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় দ্রুত স্থানীয় সরকারের সব স্তর থেকে দলীয় প্রশাসক প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়োগকৃত প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



