হিফজখানায় শিশুদের মারধর করা নাজায়েজ: মাওলানা আবুল বাশার

হিফজখানায় শিশুদের মারধর করা নাজায়েজ: মাওলানা আবুল বাশার

হিফজখানায় শিশুদের মারধর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত ইসলামি আলোচক, লেখক ও গবেষক মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম। সম্প্রতি ‘রিসালাতুল ইসলাম বিডি’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শুধু মাদরাসা নয়, কিন্ডারগার্টেন ও প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের প্রতি নির্মম আচরণের এই সংস্কৃতির পরিবর্তন জরুরি। ইসলাম শিশুদের প্রতি কোনো ধরনের কঠোরতা বা জুলুম সমর্থন করে না।

হিফজখানায় তুলনামূলক বেশি মারধরের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, আবাসিক পরিবেশের কারণে অনেক শিক্ষককে দীর্ঘ সময়, এমনকি প্রায় ২৪ ঘণ্টাই শিক্ষার্থীদের দেখভালের দায়িত্বে থাকতে হয়। অল্প বয়সী শিশুদের স্বাভাবিক চঞ্চলতা এবং একটানা পড়াশোনার ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়পক্ষই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এছাড়া বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের উচ্চমূল্যের বিপরীতে শিক্ষকদের বেতন অত্যন্ত কম থাকায় তারা তীব্র আর্থিক ও মানসিক চাপে থাকেন। তবে যতই ওজর বা সমস্যা থাকুক না কেন, শিশুদের ওপর শারীরিক নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে স্পষ্ট জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আত্মমূল্যায়ন করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন মাওলানা আবুল বাশার। তিনি বলেন, একজন বা দুইজন শিক্ষককে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব না দিয়ে হিফজখানাগুলো শিফটভিত্তিক পরিচালনা করা যেতে পারে। সকাল থেকে দুপুর এবং দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত আলাদা দল শিক্ষকতা করলে কর্মঘণ্টা ভাগ হয়ে যাবে। এতে শিক্ষকদের ক্লান্তি ও বিরক্তি কমবে এবং তারা শিশুদের সঙ্গে আরো ধৈর্য ও মমতার সঙ্গে আচরণ করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী শিক্ষকদের মানসম্মত বেতন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, নিম্নমানের ব্যবস্থাপনা রেখে শুধু অধিক শিক্ষার্থীকে হাফেজ বানানোর প্রয়োজন নেই। সব শিক্ষার্থীর হাফেজ হওয়া জরুরি নয়, বরং দ্বীনি শিক্ষার কার্যক্রম একটি সুন্দর ও মানবিক পরিবেশে পরিচালনা করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। পরিশেষে, শিশুদের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষকে এমন কর্মপদ্ধতি ঠিক করতে হবে, যাতে নির্যাতন ছাড়াই আদর-যত্ন ও সহানুভূতির সঙ্গে শিশুদের শিক্ষা দেওয়া যায়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন