‘আমার মা চলে যাচ্ছে, আমি কীভাবে শান্ত থাকব’

‘আমার মা চলে যাচ্ছে, আমি কীভাবে শান্ত থাকব’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে কুলসুমা আক্তার (৩৮) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

নিহত কুলসুমা আক্তার ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বালিখা গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কুলসুমার ছোট ছেলে স্বাধীন জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ায় গত ৪ সেপ্টেম্বর তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের নতুন ভবনের ষষ্ঠ তলার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলছিল। ছেলের সঙ্গে কুলসুমা ও তাঁর মেয়ে মিমও হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন।

নিহতের মেয়ে মিমের ভাষ্য, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁরা তিনজন ওয়ার্ডে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ পাশের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কয়েকজন ‘আগুন, আগুন’ বলে চিৎকার করতে করতে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দিকে আসেন। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সবাই দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করলে পেছন থেকে ধাক্কাধাক্কিতে তাঁরা পড়ে যান।

মিম জানান, তিনি কোনোভাবে উঠে দাঁড়াতে পারলেও কিছু সময়ের জন্য তাঁর মা ও ভাইকে খুঁজে পাননি। পরে ভাই স্বাধীনকে খুঁজে পেলেও মাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। ভাইকে নিরাপদ স্থানে রেখে তিনি মাকে খুঁজতে বের হন।

কয়েক দফা খোঁজার পর সিঁড়ির কাছে মাকে মাথা নুয়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন মিম। পরে দুই ব্যক্তি তাঁকে সিঁড়ির কাছ থেকে তুলে আনেন। মিমের অভিযোগ, তিনি আশপাশের লোকজনকে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। পরে দুই ব্যক্তি কুলসুমাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

মিমের দাবি, জরুরি বিভাগে নেওয়ার সময়ও তাঁর মায়ের শ্বাস-প্রশ্বাস চলছিল। সেখানে অক্সিজেন দেওয়া ও পালস পরীক্ষা করা হয়। তবে চিকিৎসা শুরুর আগে তাঁকে একটি ফরম পূরণ করে আনতে এবং টাকা নিয়ে আসতে বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মিম বলেন, “আমি বারবার বলছিলাম, আমার আম্মুকে দেখেন। আমার আম্মুর কী হয়েছে, কিছু হলে বলেন। কিন্তু আমাকে একটি ফরম দিয়ে সেটা পূরণ করে আনতে বলা হয় এবং টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “ফরমের দাম যদি ২০ লাখ টাকাও হতো, তবুও আমার মা মারা যাচ্ছিল। আগে রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া দরকার ছিল। ভাগ্যিস পার্সটা আমার হাতে ছিল, তাই ২০ টাকা দিতে পেরেছি।”

মিমের অভিযোগ, ফরম পূরণের পর তাঁদের হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় পাঁচ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এ সময় তিনি নিজেই মায়ের মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি দেখতে পান, তাঁর মা আর শ্বাস নিচ্ছেন না। পরে একজন চিকিৎসক এসে কুলসুমার পালস পরীক্ষা করেন। তখন মিম চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এ সময় তাঁকে শান্ত হতে বলা হয় বলে জানান তিনি।

মিম বলেন, “আমার মা চলে যাচ্ছে, তখন আমি কীভাবে শান্ত থাকব? শান্ত থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...