চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ছয় লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন।
এই ফলাফলের সরাসরি প্রভাব পড়তে যাচ্ছে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও সমমানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি। এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও আট লাখ ৪৫ হাজার ৬০৩ আসন ফাঁকা থাকবে। অর্থাৎ মোট আসনের ৫৬ শতাংশেরও বেশি পূরণ হবে না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভর্তিযোগ্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষার্থী না পাওয়ায় আর্থিক ও একাডেমিক চাপের মুখে পড়তে পারে।
গত শনিবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, এবার উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা থেকে যাবে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় থাকা মোট আসন সংখ্যা এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের পাবলিক বিশ্ববিধ্যালয় ও অধিভুক্ত ৬১টি প্রতিষ্ঠানের আসন সংখ্যা ১০ লাখ ৮২ হাজার ২৮৮টি। ১০৭টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা চার লাখ ১০ হাজার। সব মিলিয়ে ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি আসন আছে।
ইউজিসি সূত্রমতে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভর্তিযোগ্য আসন আছে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫টি। বিশ্ববিদ্যালয়টির সূত্র জানায়, সেখানে অনার্সে চার লাখ ৫২ হাজার, ডিগ্রিতে চার লাখ ৪২ হাজার এবং অনার্স প্রফেশনাল কোর্সে ১০ হাজারের মতো আসন আছে।
ইউজিসি সূত্রে আরো জানা গেছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কলেজগুলোয় ১১ হাজার ২৯০টি, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাদাসাগুলোয় ১১ হাজার ৫৫টি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪২ হাজার ৪৩৪টি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬,১২৫টি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩,৯৫৬টি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪,০৩৩টি এবং অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্নসংখ্যক আসন আছে।
সূত্রমতে, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে বেশিরভাগ যোগ্য শিক্ষার্থীর প্রথম লক্ষ্য থাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। পর্যায়ক্রমে সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন অনেকে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ না পেলে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ভরসা করেন সামর্থ্যবানরা। তবে বিত্তশালীদের কেউ কেউ আবার আগে থেকেই প্রথম সারির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
এবারের পাসের হারে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে প্রভাব পড়বে জানিয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশ (এপিইউবি) সচিবালয়ের পরিচালক বেলাল আহমেদ আমার দেশকে জানান, এইচএসসিতে এবার পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ হওয়ায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর এর প্রভাব পড়বে।
তিনি বলেন, বড় এবং নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আসন পূরণ হলেও মাঝারি ও ছোট বা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট দেখা দেবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


