অ্যানফিল্ডে ইতিহাস গড়েছে আর্সেনাল। দীর্ঘ ১৪ বছর পর লিভারপুলকে তাদেরই দুর্গে ১-০ গোলে হারিয়ে অবিস্মরণীয় এক জয় তুলে নিয়েছে গানাররা। ২০১২ সালের পর এই প্রথম অ্যানফিল্ডে কোনো লিগ ম্যাচে জয়ের দেখা পেল লন্ডনের দলটি। কাই হাভার্টজের একমাত্র গোলে পাওয়া এই মূল্যবান তিন পয়েন্টের সুবাদে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেও উঠেছে কোচ মিকেল আর্তেতার দল।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের শুরু থেকেই দুদলের আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে খেলার ১৬ মিনিটেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী ভুলটি করে বসেন লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। তার একটি দুর্বল পাস ধরে দারুণ এক আক্রমণ শাণায় আর্সেনাল। ডান প্রান্ত থেকে ডিক্লান রাইস বক্সে নিখুঁত এক নিচু ক্রস বাড়ান, যা দারুণ ফিনিশিংয়ে লিভারপুলের জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন জার্মান ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ।
গোল হজম করার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে অলরেডরা। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগও পেয়েছিল তারা। ফ্লোরিয়ান উইর্টজের দুর্দান্ত ফ্রি-কিক আর্সেনালের ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়। ঠিক তার পরপরই মিলোস কারকেজের ক্রস থেকে সম্পূর্ণ ফাঁকায় থেকেও হেড লক্ষ্য রাখতে ব্যর্থ হন আলেক্সিস মাক অ্যালিস্টার। ফলে এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় গানাররা।
বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে লিভারপুল। ৫৭ শতাংশ বল পজেশন নিজেদের দখলে রেখে তারা একের পর এক আক্রমণ চালায়। তবে আর্সেনালের জমাট রক্ষণে ফাটল ধরাতে পারেনি অলরেডরা। বুকায়ো সাকার অনুপস্থিতিতে ক্রিস্টোস জোলিস ও ননি মাদুয়েকেদের নিয়ে গড়া আর্সেনালের আক্রমণভাগও বেশ কয়েকটি চমৎকার কাউন্টার অ্যাটাক তৈরি করে।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সমতা আনতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে লিভারপুল। কিন্তু পোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান আর্সেনালের গোলরক্ষক ডেভিড রায়া। তার দুর্দান্ত সব সেভ এবং দৃঢ় রক্ষণভাগের কল্যাণে ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ১-০ গোলের লিড ধরে রেখে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল।
অ্যানফিল্ডের দীর্ঘদিনের গেরো খুলে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ায় এই জয়ে শিরোপার লড়াইয়ে আর্সেনাল আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল, অন্যদিকে এই হারে লিভারপুল কিছুটা পিছিয়ে পড়ল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

