রাজধানীর ধানমন্ডির আবাহনী মাঠ ও ধানমন্ডি মাঠকে বহুমুখী ক্রীড়া অবকাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মাঠ দুটির বিদ্যমান অবকাঠামো সংরক্ষণ ও উন্নয়নের পাশাপাশি ফুটসাল, আর্চারি, শুটিং, প্যাডেল ও ফাইভ-এ-সাইড হকির মতো বিভিন্ন খেলার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে মাঠ দুটির সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, গৃহায়ণ ও গণপূর্তসচিব মো. ওবায়দুর রহমান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খেলার মাঠের সংকট রয়েছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন মাঠগুলো আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাঠগুলোকে শুধু একটি নির্দিষ্ট খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বহুমুখী ক্রীড়া কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলা গেলে এর সুফল বেশি মানুষ পাবে। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে মাঠগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
জাকারিয়া তাহের বলেন, ‘মাঠগুলো যদি মাল্টিপারপাস স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে তৈরি করা যায়, তাহলে এলাকার মানুষ, বিশেষ করে যুবক ও শিশুরা বেশি সুযোগ পাবে।’ ধানমন্ডির দুই মাঠের পর গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন আরও মাঠ নিয়ে পর্যায়ক্রমে কাজ করার কথাও জানান তিনি।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠ ও ধানমন্ডি মাঠ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ দুটি মাঠ। মাঠ দুটির পরিবেশ ও বিদ্যমান অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে ক্রীড়া চর্চার সুযোগ বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, আবাহনী মাঠে ফুটবল গ্রাউন্ড ও ক্লাব টেন্টের পাশাপাশি ক্রিকেট মাঠ, বাস্কেটবল কোর্ট ও জিমনেশিয়ামসহ বিভিন্ন অবকাঠামো রয়েছে। এসব অবকাঠামো ভেঙে ফেলার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কার ও উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আমিনুল হক বলেন, ধানমন্ডি মাঠেও নতুন কিছু ক্রীড়া অবকাঠামো যুক্ত করা হবে। সেখানে আর্চারি ও শুটিংয়ের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি ফুটসাল, প্যাডেল ও ফাইভ-এ-সাইড হকির মতো খেলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।
মাঠ দুটির উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মডেল ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তবে উন্নয়নকাজের পাশাপাশি মাঠের বিদ্যমান পরিবেশ ও অবকাঠামো সংরক্ষণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, শুধু মাঠ বা অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক ভালো অবকাঠামোও সময়ের সঙ্গে নষ্ট হয়ে যায়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে সারা দেশে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে ১০টি ইভেন্টে দল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কর্মসূচিতে ইতিমধ্যে প্রায় ১৫ লাখ অনলাইন নিবন্ধন হয়েছে বলেও জানানো হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


