জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ এবং কার্যকর উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে নিজেদের সুস্পষ্ট অবস্থান জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় তুলে ধরেছে।
সোমবার ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে একথা জানান দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
তিনি বলেন, আজকের সেদিন, যেদিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা হলের গেট ভেঙে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তাদের স্লোগানে ধ্বনিত হয়েছিল ফ্যাসিবাদের পতনের ডাক। সেই সাহসী নারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমরা আজকের আলোচনায় নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমাদের দলের অবস্থান তুলে ধরেছি।
আখতার হোসেন জানান, এনসিপির পক্ষ থেকে সংসদে সরাসরি নির্বাচিত ১০০ নারী সদস্যের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রক্রিয়াগতভাবে তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে—এ নিয়ে এখনো ঐকমত্য তৈরি হয়নি, তবে মিশ্র পদ্ধতির (এফপিটিপি ও টপ-আপ) মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা চাই, দলগুলো যেন তাদের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ১৫ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দিতে বাধ্য থাকে। সেই সঙ্গে টপ-আপ পদ্ধতির মাধ্যমে বাকি নারী আসনগুলো পূরণ করে সংসদে ১০০ নারী সদস্যের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব।
সংসদের উচ্চকক্ষ নিয়ে আলোচনায় তিনি বলেন, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে মত দিয়েছে। তবে কিভাবে এটি গঠিত হবে—সে বিষয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে। আখতার হোসেন জানান, উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণে পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতির পক্ষেই এনসিপির অবস্থান। জেলা ও সিটি করপোরেশনভিত্তিক আসন বিভাজনের প্রস্তাবকে দলটি কার্যকর মনে করেনি।
তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি, কিছু প্রস্তাবে উচ্চকক্ষকে দুর্বল করে তোলার প্রবণতা আছে। নিম্নকক্ষের রেপ্লিকা হলে উচ্চকক্ষ কোনো আলাদা চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স তৈরি করতে পারবে না। আমরা চাই এমন একটি উচ্চকক্ষ যেখানে এমনকি এক শতাংশ ভোট পাওয়া দলও প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।
আখতার হোসেন বলেন, আমরা বলেছি, সংবিধান সংশোধনের জন্য উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা থাকা উচিত।
তিনি আরও জানান, এনসিসি (জাতীয় নিয়োগ কমিটি) গঠনের ক্ষেত্রেও উচ্চকক্ষের প্রতিনিধিরা যুক্ত থাকবেন বলে দলের পক্ষ থেকে মত দেওয়া হয়েছে।
কিছু রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে উচ্চকক্ষের ধারণাকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরা একমত প্রস্তাবগুলো নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—কার্যকর উচ্চকক্ষ থাকতে হবে, এবং সেটি হতে হবে প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে।
বামপন্থী নেতাদের বিরোধিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বলিনি যে সব দল একমত, তবে অধিকাংশ দল উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। কেউ ভিন্নমত থাকলে সেটাকে ব্যতিক্রম হিসেবেই দেখতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

