দুই দিনের প্রশিক্ষণে প্রায় লাখ লাখ টাকা ব্যয়

সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি উপেক্ষা করে ইসি কর্মকর্তাদের ঠাকুরগাঁও সফর

সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি উপেক্ষা করে ইসি কর্মকর্তাদের ঠাকুরগাঁও সফর
ফাইল ছবি

সরকারি অর্থ সাশ্রয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের পর বর্তমান সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও তা পাত্তাই দিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের নামে ঢাকা থেকে বড় একটি কর্মকর্তা দলকে ঠাকুরগাঁও পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ভ্রমণ ভাতা (টিএ-ডিএ) ও সম্মানী বাবদ লাখ লাখ টাকার অতিরিক্ত ব্যয় হবে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, রংপুর অঞ্চলেই পর্যাপ্ত অভিজ্ঞ কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা থেকে এত বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা পাঠানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ ছাড়া মাত্র আট মাস আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় এই উপনির্বাচনে নতুন করে বড় পরিসরে এমন প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

ব্যয়ের অঙ্ক ও হিসাব

ইসি সূত্রে জানা যায়, ভোটগ্রহণের প্রশিক্ষণে নিয়োজিত একজন কর্মকর্তার এক দিনের সম্মানী ৮ হাজার টাকা। সে হিসাবে দুই দিনের প্রশিক্ষণে একজন কর্মকর্তা ১৬ হাজার টাকা সম্মানী পাবেন। এর সঙ্গে যুক্ত হবে টিএ-ডিএ বাবদ আরও ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে একজন কর্মকর্তার পেছনে ইসির মোট খরচ হবে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। তালিকায় থাকা ২৫ জন কর্মকর্তার যাতায়াত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে এই খাতে সরকারের প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। অথচ স্থানীয় বা আঞ্চলিক পর্যায়ে কর্মরত অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের দিয়েই এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ইসির প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আমার দেশকে বলেন, সরকারের ব্যয়-সংকোচন নীতি তারা যথাযথভাবে অনুসরণের চেষ্টা করছেন। তবে ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে ঢাকা থেকে এত বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানোর বিষয়টি তার জানা নেই বলে দাবি করেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনে বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলেও জানান তিনি।

ঠাকুরগাঁও সফরে মনোনীত কর্মকর্তাদের তালিকা

ইসি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রশিক্ষণে অংশ নিতে ঢাকা ও স্থানীয় পর্যায় থেকে মোট ৩৫ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন; মো. আতিয়ার রহমান, পরিচালক (প্রশিক্ষণ), নিপ্রই; কাজী মো. ইস্তাফিজুল হক আকন্দ, পরিচালক (চ:দা:), এনআইডি; ইকবাল হোসেন, সিনিয়র সহকারী সচিব (জনবল-৩), নিকস; মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার, ঢাকা; সাব্বির আহমদ, সিনিয়র সহকারী সচিব, নিকস; মো. শহিদুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী সচিব, নিকস; মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, সিনিয়র সহকারী সচিব, নিকস; আরাফাত আল হোসাইনী, সহকারী সচিব, নিকস; মোহাম্মদ শহীদুর রহমান, সহকারী সচিব, নিকস; মো. মমতাজ-আল-শিবলী, সহকারী সচিব, নিকস এবং মোহাম্মদ মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার, সিনিয়র সহকারী সচিব, নিকস।

এ তালিকায় ঠাকুরগাঁও জেলার স্থানীয় নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল আলীম আমার দেশকে বলেন, ভোটের প্রশিক্ষণ নীতিমালাটা জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকে। এ সময় পুরো দেশজুড়ে প্রশিক্ষণ চলে, সে কারণে ঢাকা থেকে কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করা হয়। তবে উপনির্বাচনটাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে হয়তো ঢাকা থেকে কর্মকর্তা পাঠিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে মনে রাখতে হবে, আমার দেশটি গরিব এবং অর্থ-সম্পদ কম। তাই পাশের জেলার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের এ কাজে যুক্ত করে কাজটি সম্পন্ন করা হলে ব্যয় কিছুটা কমানো যেত। সেটাও যৌক্তিক হতো।

ঠাকুরগাঁওয়ে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণের পেছনে ৪২ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে এ উপনির্বাচনে প্রিসাইডিং ১৯৫, সহকারী প্রিসাইডিং ১ হাজার ৩৮ জন, পোলিং ২ হাজার ৭৭ জন এবং প্রশিক্ষক ৩৫ জন। এর বাইরে আইনশৃঙ্খলাসহ অন্যান্য খাতে এই ব্যয়ের তিন গুণ বেশি খরচ হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন